অবৈধ চামড়া কারখানার বর্জ্যে বিপন্ন ধলেশ্বরী

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের হোগলাগাদি গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে একটি চামড়া পোড়ানোর কারখানা। চামড়া পোড়ানোর বর্জ্য সরাসরি পড়ছে ধলেশ্বরীতে। এতে করে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে ধলেশ্বরী নদী, সেই সঙ্গে কারখানার দুর্গন্ধে দুর্ভোগ বেড়েছে এলাকাবাসীর। রাতভর চামড়া পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক বার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, হযরতপুর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী ঘেঁষেই হোগলাগাদি গ্রাম। এই গ্রামের শেষ প্রান্তে গড়ে উঠেছে একটি চামড়ার কারখানা। দিনভর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা চামড়া নিয়ে আসা হয় কারখানায়। এরপর সারা রাত ওই কারখানায় পোড়ানো হয় পশুর চামড়া। চামড়া পোড়ার দুর্গন্ধ এবং ধোঁয়ায় রাতভর দুর্ভোগ পোহাতে হয় গ্রামবাসীকে।

জানা গেছে, এসব চামড়া পুড়িয়ে তৈরি হয় মুরগির খাবার ফিড। সেই সঙ্গে পোড়া সব রাসায়নিক গিয়ে সরাসরি পড়ছে ধলেশ্বরীতে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় যুবদল নেতা হালিমের তত্ত্বাবধানে চলছে কারখানাটি। প্রশাসনকে কয়েকবার গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলেও উপজেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি স্থানীয় এমপি আমান উল্লাহ আমান কারখানাটি বন্ধের নির্দেশ দিলে কিছুদিন বন্ধ রাখার পর কারখানাটি আবার চালু করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী তীরে গিয়ে দেখা যায়, নদীর একেবারে তীর ঘেঁষেই তৈরি হয়েছে কারখানাটি। সুনসান নীরবতাপূর্ণ স্থানটিতে কোনো ধরনের স্থায়ী কাঠামো ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত হচ্ছে কারখানাটি। নদীর তীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে চামড়া পোড়ানোর যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক বিভিন্ন পদার্থ। রোদে শুকাতে দেওয়া হয়েছে চামড়া পুড়িয়ে তৈরি উপাদানগুলো। স্তরে স্তরে সাজানো বিভিন্ন পশুর চামড়ার তীব্র দুর্গন্ধে স্থানটিতে টেকাই দায়। পাশেই রয়েছে শাকসবজির কয়েকটি ক্ষেত। কারখানার মালিক স্থানীয় যুবদল নেতা হালিমের কাছে কারখানাটি অবৈধ এবং ধলেশ্বরী নদী দূষণ করছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারখানাটি কারও কোনো ক্ষতি করছে না।’ তখন চামড়া পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় মাুনষ ও প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের কথা তুলতেই, তিনি উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

কারখানার সন্নিকটে নতুন মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার জানান, ‘কারখানার দুর্গন্ধে সবচেয়ে কষ্ট হয় স্কুলের কোমলমতি শিশুদের। ক্লাস চলাকালীন রুমের দরজাজানালা বন্ধ রাখতে হয়।’ কারখানাটি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শুনেছি চামড়া পুড়িয়ে মুরগির খাবার তৈরি হয়। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার প্রভাবে চলছে কারখানাটি।’ ওমর আলী নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘মাঝে কিছুদিন কারখানা বন্ধ ছিল। কারখানার গন্ধে বাসাবাড়ির বাচ্চাদের অসুখ-বিসুখ হইতাছে। রাইতে গন্ধে ঘুমাইতে পারি না। ধুয়াতে চোখ জ্বলে।’

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নাদিম আহমেদ বলেন, এভাবে চামড়া বর্জ্য খোলা জায়গায় রাখলে, বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণুর বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক জানান, দ্রুতই কারখানাটিতে অভিযান চালানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত