মেহেরপুর সীমান্তে দিয়ে ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে আবারও ১০ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের নিয়ে ফিরে যায় বিএসএফ। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৪২-এর ৫এস ও ৬এস-এর মধ্যবর্তী শেওড়াতলা সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার ব্রজনাথপুর গ্রামের দিক থেকে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে বিষয়টি তারা বিজিবিকে জানান। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেন এবং বিএসএফের এমন উদ্যোগের প্রতিবাদ জানান। একই সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়ে পুশইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী রেজানুল হকের ভাষ্য, বিজিবির কড়া অবস্থান ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের নিয়ে পিছু হটে। বর্তমানে তারা ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

স্থানীয়রা আরও জানিয়েছে, পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।

এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, বিজিবির দ্রুত পদক্ষেপ ও এলাকাবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা সফল হয়নি।

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি এবং স্থানীয়দের দাবী চলতি মাসের ৬ তারিখ ভোরে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ৬ ও ১৯ তারিখে সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের বিওপি সীমান্তের খালপাড়া এলাকা দিয়ে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও গ্রামবাসি সীমান্তে অবৈধ পুশইন ঠেকাতে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কারনে বিএসএফ তাদের ফেরত নেয়।