মেহেরপুর 

বোমার পাশে চিরকুট রেখে বিএনপি নেতাকে হুমকি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেন ও তার কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা—এমন অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুর জেলার একাধিক বিএনপি নেতার বাড়ির সামনে একই ধরনের হাতবোমা ও চিরকুট রেখে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে। 

বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামের বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেনের বাড়ি ও চায়ের দোকানের সামনে লাল কসটেপে মোড়ানো একটি হাতবোমা এবং হুমকিমূলক চিরকুট দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। 

ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা বোমা ও চিরকুটটি সেখানে রেখে যায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাংনী থানা পুলিশ বোমা ও চিরকুটটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে একটি বেঞ্চের ওপর বোমা ও চিরকুটটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে দোকান খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় শরিফুল ইসলাম এগুলো দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে পানিভর্তি পাত্রে সংরক্ষণ করেন।

উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, ‘এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বসবে না। যারা বসবে, তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখব না।’

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাদ্দিদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতবোমা ও একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়েছে।

এর আগে চলতি মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি স্থানে হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত