দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের আহ্বান, স্বাধীন দুদক চায় টিআইবি

বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের অধীনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পূর্ণ স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করছে, দীর্ঘ সময় ধরে কমিশনহীন থাকা দুদকের জন্য এটি একটি সন্ধিক্ষণ। সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগের লক্ষ্যে যে সার্চ কমিটি গঠিত হয়েছে, সেই কমিটির মাধ্যমে একজন সাহসী, সৎ এবং অদম্য নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন ব্যক্তিকে সংস্থাটির প্রধান হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করছে টিআইবি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দুদককে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের চাপে নতি স্বীকার করা চলবে না। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, তা বাস্তবায়নে দুদককেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে প্রতিষ্ঠানটি যদি কাজ করতে পারে, তবেই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে।

টিআইবির সাম্প্রতিক ‌‘জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ এর তথ্য অনুযায়ী, কর্তৃত্ববাদী সরকার পতনের পর বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার যে স্বপ্ন ছাত্র-জনতা দেখেছিলেন, তার সাথে বর্তমান বাস্তবতার বেশ অমিল পরিলক্ষিত হচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দুর্নীতির হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জরিপের তথ্য বলছে, দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার হওয়ার হার যথাক্রমে ১৫.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সেবাখাতগুলোর মধ্যে পাসপোর্ট অফিস এবং বিআরটিএ দুর্নীতি ও ঘুষের দিক দিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে।

জরিপের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ আর্থিক চিত্র। জাতীয় পর্যায়ে বর্তমানে মোট ঘুষের পরিমাণ প্রাক্কলিত ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এই পরিমাণ অর্থ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত জাতীয় বাজেটের প্রায় ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। যদিও খানাপ্রতি গড়ে ঘুষের পরিমাণ কিছুটা কমলেও মোট দুর্নীতির অংক বৃদ্ধির বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

সবশেষে টিআইবি জানিয়েছে, বিচারিক সেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির উচ্চহার সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ভূমি খাতের মতো জনসেবামূলক খাতগুলোতেও ঘুষের দৌরাত্ম্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক সংস্কার এবং দুদকের কার্যকর ও স্বাধীন কর্মপদ্ধতি নিশ্চিত না করলে এই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।