পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে আদিবাসী পূর্ণ মন্ত্রী চান ৩২ বিশিষ্ট নাগরিক

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদত্যাগে পার্বত্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৃষ্ট হতাশা দূর করতে অবিলম্বে পার্বত্য অঞ্চলের আস্থাভাজন কোনো আদিবাসী ব্যক্তিকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ৩২ জন নাগরিক।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচিত সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের দিনই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন পূর্ণ মন্ত্রীর ওপর অর্পণ করায় পার্বত্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি পার্বত্য অঞ্চল থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করায় পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনেকের মনে ধারণা জন্মেছে যে দায়িত্ব পালনকালে কোনো বিশেষ মহল তার ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সরকারের প্রতি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য জেলার পাহাড়ি আদিবাসীদের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্যমূলক ও বৈরী আচরণ করা হয়েছে। এর ফলে তাদের স্বতন্ত্র জীবনধারা, সংস্কৃতি ও অধিকার চর্চা হুমকির মুখে পড়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শাসনামলে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শেষে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চুক্তি কোনো একক রাজনৈতিক দলের কৃতিত্ব নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও বিভিন্ন অঙ্গীকারে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ‘রেইনবো’ বা ‘রংধনু রাষ্ট্র’ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নাগরিক সমাজ মনে করে, এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।

তবে বর্তমানে পার্বত্য মন্ত্রণালয়কে ঘিরে সৃষ্ট শূন্যতা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। স্বাক্ষরকারীরা বলেন, যাত্রার শুরুতেই যে সরকার ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের প্রত্যয় ঘোষণা করেছে, তাদের ভাবমূর্তির জন্যও এ পরিস্থিতি সুখকর নয়।

তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভা বিষয়টি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিবৃতিতে তাদের একমাত্র দাবি হিসেবে বলা হয়, অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে তাদের আস্থাভাজন কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী নিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে পুরো মন্ত্রণালয়ের পরিচালনার দায়িত্বও তার ওপর অর্পণ করতে হবে।

তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, “উপজাতীয়দের মধ্যে থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে।” এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও অতীতে পার্বত্য জনগোষ্ঠীর একজন সদস্যকে উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল এবং পুরো মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তার ওপর ন্যস্ত ছিল। তাই এটিকে একটি প্রতিষ্ঠিত রেওয়াজ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হচ্ছেন:

১. অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন

২. খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি

৩. আবু সাঈদ খান, লেখক ও সাংবাদিক

৪. ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআই-বি

৫. অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সভাপতি, আইন ও সালিস কেন্দ্র

৬. ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও অনারারি নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট

৭. ড. শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী

৮. শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি

৯. অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

১০. রেহেনুমা আহমেদ, লেখক

১১. ড.গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১২. ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৩. ড. খায়রুল চৌধুরী, অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৪. ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

১৫. পাভেল পার্থ, লেখক ও গবেষক

১৬. ড. ঈশিতা দস্তিদার, নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক

১৭. ড. নাসরিন খন্দকার, নৃবিজ্ঞানী

১৮. রোজিনা বেগম, গবেষক ও অধিকার কর্মী

১৯. অ্যাডভোকেট সালমা আলী, নির্বাহী পরিচালক, বি এন ডব্লিউ এল এ

২০. কাজল দেবনাথ, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ

২১. মনিন্দ্র কুমার নাথ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

২২. সালেহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

২৩. পারভেজ হাসেম, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী

২৪. জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ

২৫. অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, প্রধান নির্বাহী, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন

২৬. রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট

২৭. সাঈদ আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী

২৮. শাহেদ কায়েস, কবি ও প্রাবন্ধিক

২৯. দীপায়ন খীসা, মানবাধিকার কর্মী

৩০. মুক্তাশ্রী চাকমা, অধিকার কর্মী

৩১. মেইনথিন প্রমীলা, আদিবাসী অধিকার কর্মী

৩২. ড. হানা শামস আহমেদ, অধিকার কর্মী

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত