দেশে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থাকে নতুন মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বাংলা কিউআর ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এর সীমিত ব্যবহার চোখে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ক্যান্টিনে গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতোই বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। সেখানে বাংলা কিউআরের কোনো দৃশ্যমান ব্যবহার বা গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায়নি। যে কারণে নিজেদের মধ্যেই চলছে সমালোচনা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলা কিউআরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ও কবির আহম্মেদ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার নানা সুবিধা তুলে ধরেন।
ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, নগদ লেনদেন কমিয়ে ধীরে ধীরে একটি ক্যাশলেস সোসাইটি বা নগদবিহীন সমাজ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলা কিউআর চালু হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। খুচরা টাকার সংকট কিংবা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নেওয়ার ঝামেলাও থাকবে না।
তিনি বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক খাতের অনেক কর্মকাণ্ডও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আসবে, যা দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিরূপণে সহায়ক হবে।
হাবিবুর রহমান বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পথের বিক্রেতারাও সহজে বাংলা কিউআরের আওতায় আসতে পারবেন। এজন্য সব ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব অ্যাপে বাংলা কিউআর সংযুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি উল্লেখ করে ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মেদ বলেন, সব ধরনের লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হলে সরকারের কর আহরণ সক্ষমতা বাড়বে এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত উন্নত হবে।
তিনি বলেন, আগামী বছর দেশে একটি ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংক হিসাবের মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। এতে দেশের পেমেন্ট অবকাঠামো আরও সমন্বিত ও কার্যকর হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বাংলা কিউআরকে ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ হিসেবে তুলে ধরলেও এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
তাদের মতে, উদ্যোগটির কার্যকারিতা প্রমাণে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে নিজেদের কার্যক্রমের ব্যবহার দৃশ্যমান করতে হবে।