আইএমসিবি

দেশীয় ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে 

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০৮:০১ এএম

বড় আকারের সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পে স্থানীয়ভাবে সনদপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরামর্শক (ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট) নিয়োগ দিলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস বাংলাদেশের (আইএমসিবি) নেতারা।

তারা বলেন, বাংলাদেশি অনেক পরামর্শক বিদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতার প্রমাণ। তারা সরকারি প্রকল্পগুলোতে অন্তত ৬০ শতাংশ স্থানীয় পরামর্শক নিয়োগের দাবি জানান।

রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। 

দেশীয় ও বিদেশি পরামর্শকদের ফি বৈষম্য প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, সমমানের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পরামর্শকদের তুলনায় বিদেশি পরামর্শকদের অনেক বেশি ফি প্রদান করা হচ্ছে-যা দীর্ঘদিনের প্রচলিত অনিয়ম। এমন চর্চার কঠোর সমালোচনা করে তারা বলেন, এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশীয় দক্ষ মানবসম্পদ অবমূল্যায়িত হচ্ছে।

আইএমসিবি নেতারা জানান, এই বৈষম্য দূর করতে সংগঠনটি সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে লবিং করবে এবং নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান জানাবে, যাতে দেশীয় প্রতিভাকে অগ্রাধিকার ও ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয় এবং ব্যয়বহুল বিদেশি ফার্মের ওপর নির্ভরতা কমে আসে।

১৯৯৭ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স প্রাপ্তির পর থেকে আইএমসিবির অগ্রগতির কথা তুলে ধরে সভাপতি নদিম এ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ইনস্টিটিউটস (আইসিএমসিআই)-এর স্থায়ী সদস্য, যা ৫২টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত।

তিনি বলেন, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশে সনদপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরামর্শক (সার্টিফায়েড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট-সিএমসি) পদবি প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও যোগ্যতার কঠোর মানদ- নিশ্চিত করে।

আইএমসিবি চেয়ারম্যান এম. জাকির হোসেন বলেন, দেশের পরামর্শক খাত বর্তমানে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও খ-িত হয়ে পড়েছে, ফলে প্রকৃত যোগ্য ও সনদপ্রাপ্ত পরামর্শকদের আলাদা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকে সময়োপযোগী বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

আগামী বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং (পিজিডিএমসি) এবং সিএমসি পদবির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে জ্বালানি, অবকাঠামো, অর্থনীতি ও নিয়ন্ত্রক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের পরামর্শক সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে কাঠামোগত সংস্কারের কথাও তারা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আইএমসিবি সভাপতি নদিম এ চৌধুরী ছাড়াও চেয়ারম্যান এম জাকির হোসেন ও অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুর রব গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আসন্ন বার্ষিক সম্মেলন সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়।

সূত্র: বাসস

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত