বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমেছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে আগস্ট ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৬ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৭৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৫৮ ডলারে নেমে আসে।

দুই ধরনের তেলের দামই গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে পর্যাপ্ত সরবরাহের ইঙ্গিত পাওয়ায় দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে বুধবারও ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ের দাম প্রায় ৩ ডলার করে কমেছিল। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এক ফোরামে বলেন, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পরিবহন প্রায় যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২ কোটি ব্যারেল তেল প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, কারণ প্রণালিতে পাতা মাইন অপসারণের কাজ এখনও চলছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় পাওয়ার পর ইরানের তেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে ভূমিকা রাখছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার শুরু হয়। সমঝোতার অংশ হিসেবে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জটিল বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্রিস রাইটের মতে, সমঝোতা ভেঙে গেলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি দাবি করেন, ইরান আর প্রণালিটি বন্ধ করার সক্ষমতা রাখে না।

এদিকে তেহরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর ‘সামুদ্রিক সেবা ফি’ আরোপ করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হওয়ায় সেখানে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপ করা উচিত নয়।

ট্যাংকার চলাচল সহজ করতে বুধবার ওমান হরমুজ প্রণালির বিকল্প অস্থায়ী রুট চালু করেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) এবং ওমানের কর্তৃপক্ষ এসব রুটের সমন্বয় করছে।

তবে বৃহস্পতিবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন বিকল্প নৌপথেরও সমালোচনা করেছে তারা।