আপনাকে নিয়ে যে বসাবো, সেই অডিটোরিয়ামই নেই- শিক্ষামন্ত্রীকে ববি উপাচার্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের আমন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী  আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি ববি ক্যাম্পাসে পৌঁছান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট ও উন্নয়ন চাহিদার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন উপাচার্য। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এ সময় তিন দফা দাবিসম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আবাসিক হল সংকট নিরসন এবং ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ। স্মারকলিপি তুলে দেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশারেফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত।

স্বাগত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নানা কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট রয়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, আমাদের কোনো অডিটোরিয়াম নেই। আপনাকে নিয়ে যে বসাবো, সেই অডিটোরিয়ামেই নেই।

তিনি বলেন, আমাদের একাডেমিক ভবনের সংকট রয়েছে। ক্যাম্পাসের অনেক রাস্তা এখনো ইট বিছানো। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। উন্নয়নের জন্য নতুন ডিপিপি এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।

উপাচার্যের বক্তব্যের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কেন হয়নি, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। স্বল্প সময়ের সফরে বরিশালে এসেছি। উপাচার্যের আমন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তোমাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হলো।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের আয়তন ৫০ একর থেকে বাড়িয়ে ১০০ একর করার দাবি যৌক্তিক। যদি আশপাশে জমি পাওয়া না যায়, তাহলে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানে যা যা প্রয়োজন, তাই করা হবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।