প্রাণিজগতের রক্তগ্রুপ রহস্য

মানুষের শরীরে আয়রন বা হিমোগ্লোবিন থাকার কারণে রক্ত লাল। কিন্তু কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর রক্তে তামার উপস্থিতি থাকায় তা নীল। বিস্ময়কর হলো অক্টোপাস, স্কুইড, মাকড়সা ও কিছু প্রজাতির শামুকের রক্তে ‘হিমোসায়ানিন’ নামের প্রোটিন থাকে। এতে লোহার পরিবর্তে তামার পরমাণু থাকে, যা দেহের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়ায় নীল দেখায়। অবশ্য অক্সিজেন বাদে এটি বর্ণহীন। হর্সশু ক্র্যাবের মূল্যবান রক্তও নীল। এমন কাঁকড়ার রক্ত ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এলে জমাট বাঁধে। ফলে ইনজেকশন, ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য সার্জিক্যাল সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত কিনা তা পরীক্ষা করতে বিশ^জুড়ে এই রক্ত অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বাজারে তার এক লিটার রক্তের দাম ১৫ হাজার ডলারের বেশি। আবার পাপুয়া নিউগিনির কিছু টিকটিকি ও স্কিঙ্কের রক্তরঙ সবুজ । এদের শরীরে পিত্তরঞ্জকের মাত্রা অনেক বেশি। ফলে রক্তের হিমোগ্লোবিন ভেঙে সবুজ রূপ ধারণ করে। বিস্ময়কর হচ্ছে, তেলাপোকা বা ফড়িংয়ের মতো কিছু পতঙ্গের রক্ত বর্ণহীন। কারণ তাদের রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য কোনো রঞ্জক পদার্থ নেই। মানুষের রক্তের গ্রুপ মাত্র ৪টি (এ,বি,এবি, ও) হলেও, সব মিলিয়ে গরুর রক্তে ৮০০টিরও বেশি অ্যান্টিজেন বা ভিন্ন রক্ত গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু খরগোশের রক্তের গ্রুপ ৫। আবার বিড়ালের প্রধান রক্তের গ্রুপ ৩, কুকুরের ৫, ঘোড়ার ৯টির বেশি। অন্যদিকে শুয়োরের ১৬টি রক্তের গ্রুপ। মুরগির ১৩টি ভিন্ন রক্তের গ্রুপ। তবে তোতাপাখির কোনো স্বীকৃত রক্তের গ্রুপ নেই। আরও বিস্ময়কর হচ্ছে জেলিফিশের শরীরে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড বা রক্ত নেই। শরীরের প্রায় ৯৫% পানি দ্বারা পূর্ণ হওয়ায়, এদের কোষগুলো সরাসরি চারপাশের পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। উটের রক্তে লোহিত কণিকা নেই। বিজ্ঞানীরা প্রাণীদের রক্ত গ্রুপ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। জানা যাচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে প্রাণিজগতের রক্তগ্রুপ রহস্য নিয়ে আরও আশ্চর্যজনক তথ্য জানা যাবে।