পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়। একদিন সব ধ্বংস হয়ে যাবে। শুরু হবে পরকালের জীবন। কিন্তু সেই মহাদিবস কবে সংঘটিত হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে কেউ জানে না। মহান আল্লাহ কেয়ামতের সময়কে গোপন রেখেছেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কেয়ামতের জ্ঞান মহান আল্লাহর কাছেই রয়েছে।’ (সুরা লুকমান ৩৪)
অনেকের মাঝে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, আশুরার দিন অর্থাৎ ১০ মহররম কেয়ামত সংঘটিত হবে। কিন্তু এ বিষয়ে যে বর্ণনা উল্লেখ করা হয়, মুহাদ্দিসদের গবেষণা অনুযায়ী তা ভিত্তিহীন ও জাল। প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ আল্লামা ইবনুল জাওজি (রহ.) ওই বর্ণনাকে মওজু বা বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লামা সুয়ুতি (রহ.)-ও তার সঙ্গে একমত হয়েছেন।
তবে সহিহ হাদিসে জুমার দিনে কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়, তার মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এ দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এ দিন তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে এবং জুমার দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম ৮৫৪)
কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সূচনা হবে ফেরেশতা ইসরাফিল (আ.)-এর শিঙায় প্রথম ফুৎকারের মাধ্যমে। আল্লাহর নির্দেশ পাওয়া মাত্র তিনি শিঙায় ফুৎকার দেবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজগতের ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, একটি মাত্র ফুৎকার। তখন পৃথিবী ও পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে এবং এক আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।’ (সুরা হাক্কাহ ১৩-১৪)