হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সহায়তা স্থগিত করল জাতিসংঘ

ওমান উপকূলের কাছে একটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। এতে ইরান যুদ্ধের অবসানে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের কাছে একটি কার্গো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ একটি বস্তু আঘাত হানে। পরে দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, জাহাজটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার শিকার জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এভার লাভলি এবং এটি সম্ভবত ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

এ ঘটনার পর আইএমও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পুনরায় যাচাই করা যায়। তবে হামলার শিকার জাহাজটি আইএমওর সরিয়ে নেওয়ার কর্মসূচির অংশ ছিল না।

এদিকে ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার দায় তারা নেবে না। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসও সতর্ক করে বলেছে, অনুমোদিত রুট অনুসরণ না করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক তেল পরিবহন কবে পুরোপুরি পুনরায় চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

বিশ্বের দৈনিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ চলাকালে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল ইরান, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে তা গুরুতর সংকটের জন্ম দেবে। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। 

যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।