সুন্দরবনের বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের গোলাগুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় বাহিনী প্রধানকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে বনবিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় এঘটনা ঘটে। রাতব্যাপী গুলি শব্দে খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন মহেশ্বরী পুর ইউনিয়নে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত সাকাত সরদার মহেশ্বর পুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের ইজহার সরদারের ছেলে। তিনি তেঁতুল তলার চরে গুচ্ছ গ্রামে বসবাস করত।
এদিকে রাতব্যাপী অভিযান চালিয়ে দুলাভাই বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের রাতভর বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চলছে। সকালে বাহিনী প্রধানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা অভিযানে আছেন, পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
শুক্রবার সকালে দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় কোস্টগার্ড। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার সঙ্গে নিয়ে গেছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়রা মহেশ্বরীপুর গ্রামের মানিক গাজীর জেলে রবিউল ইসলাম (৫০) কে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাতসহ শরীরে গুলির ক্ষত ছিল।
মহেশ্বরীপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মানিক গাজীর জেলে রবিউল ইসলামই বনদস্যু দুলা ভাই বাহিনী প্রধান। একসময় সুন্দরবনের ত্রাস ছিল ‘ইলিয়াস বাহিনী’। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালে ইলিয়াসের বোনের স্বামী রবিউল নতুন দল গড়ে তুললে স্থানীয় লোকজন এর নাম দেন ‘দুলাভাই বাহিনী’।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযানের সময় কোস্টগার্ড দুলাভাই বাহিনীকে ঘিরে ফেলে এবং আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। তখন দস্যুরা গুলি চালালে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। তাদের দাবি, এতে দস্যু দলের একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দস্যুদের একটি ট্রলারও কোস্টগার্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, বনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত ও একজনকে আটক করা হয়েছে বিষয়টি কোস্টগার্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।