১০৯ তম কন্যার বিয়ের খরচ বহন করলেন সমাজসেবক রুহুল আমিন

১০৯ কন্যার অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে বিয়ের সমস্ত খরচ বহন করলেন মানবিক রুহুল আমিন রুবেল। অসহায় রাবেয়াকে নিজের মেয়ের মতো করে তার পরিবারের ইচ্ছামাফিক জাকজমকপুর্ণ অনুষ্ঠান করে বিয়ে দিয়েছেন।

কনে রাবেয়া নড়াইলের লোহাগড়ার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের জালাল মোল্যার মেয়ে। ৮ বছর আগে বাবা দুরারোগ্য ব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

বিয়ের ব্যয়ভার বহনকারী মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিতি রুহুল আমিন রুবেল নাটোরের বড়াইগ্রামের চণ্ডিপুর গ্রামের। তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে নিজ খরচে ১০৯টি অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের কন্যা সন্তানের বিয়ের খবর বহন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

জানা গেছে, ৮ বছর আগে ঈশানগাতী গ্রামের জালাল মোল্যার মৃত্যু হয়। পেশায় দীনমজুর ছিলেন। দীনমজুর বাবার মৃত্যুর পর রাবেয়ার অসহায় মা হেনা বেগমের কাঁধে সংসারের ভার পড়ে। খেয়ে না খেয়ে অর্থ কষ্টেই বেড়ে ওঠে রাবেয়া। রাবেয়ার বয়স ১৮ বছর হওয়ায় তার বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে থাকে তার পরিবার। কিছুদিন আগে রাজধানী ঢাকার মিরপুর পূর্ব কল্যাণপুর পাইকপাড়া এলাকায় বসবাসরত আবুল খায়ের মিয়ার ছেলে মো. পারভেজ মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়। উভয়পক্ষের সম্মতিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়। বরযাত্রী ১৫ জন। এছাড়া আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশি সব মিলে লোকসংখ্যার শতাধিক মানুষের আয়োজন বিধবা হেনা বেগমের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

হেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে সংসারের খরচ চালাতেন। ঋণ আদান-প্রদানের মধ্যদিয়ে লক্ষ্মীপাশা পল্লী প্রগতি সহায়ক সমিতির ম্যানেজার নূর মোহাম্মদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। মা হেনা বেগম তার মেয়ের বিয়ের খরচ যোগাড় নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কথা জানান ম্যানেজারকে। বিষয়টি নূর মোহাম্মদ শোনার পর তার ঘনিষ্ট বন্ধু মানবিক রুহুল আমিন রুবেলকে জানান। রুহুল আমিন বিষয়টি জানতে পেরে রাবেয়ার বাড়িতে ছুটে যান। তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং রাবেরায় বিয়ের যাবতীয় ব্যয়বহনের আশ্বাস দেন।

বৃহস্পতিবার ছিল রাবেয়ার বিয়ের দিন। বিয়েকে ঘিরে রাবেয়াদের বাড়িতে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে সবাই। শিশুদের রঙ উৎসব, বিয়ের গোসল, নারীদের বরণ অনুষ্ঠান, হলুদ সন্ধ্যা, নাচ গানসহ নানা আয়োজন ছিল।

মানবিক রুহুল আমিন রুবেল বলেন, রাবেয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তারা যেভাবে ইচ্ছাপোষণ করেছে, ঠিক সেভাবেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়েতে মোট দেড়শত লোকের খাবারের আয়োজন করা হয়। রাবেয়াকে নিজের মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেই তার বিয়ের যাবতীয় আয়োজন করেছি। রাবেয়া আমার ১০৯তম কন্যা। তার বিয়েতে শরীক হতে পেরে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।

তিনি বলেন, সমাজে অনেক ধনী মানুষ আছে। তারাও ইচ্ছা করলে এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে পারেন। তাহলে আমাদের সমাজে গরীব মানুষের দুঃখ কষ্ট অনেকটাই দূর হয়ে যাবে। আমি ২০০২ সাল থেকে মানবিক কাজ শুরু করি ।

রাবেয়ার মা হেনা বেগম বলেন, মেয়ের বিয়ের খরচ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। রুহুল আমিন ভাই মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেয়ায় চিন্তুমুক্ত হই। মেয়ের বিয়ে আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রুবেল ভাই, পাশে না দাড়ালে বিয়ের খরচ কিভাবে যোগাড় করতাম তা আল্লাহপাকই জানেন।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের একজন সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল। নিজ জেলাসহ দেশের যেখানেই অস্বচ্ছল ও এতিম মেয়ের সন্ধান পান সেখানেই পিতৃহীন কন্যার বাবার ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয়দের নিয়ে নিজ খরচে আয়োজন করেন বিয়ের। কন্যা ও তার পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী জাকজমকপুর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এভাবে গত ২৪ বছরে ১০৯ মেয়ের বাবা হয়েছেন রুহুল আমিন রুবেল।