কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শাহপরীর দ্বীপ সড়ক এখন সেজেছে সম্পূর্ণ নতুন এক রূপে। টেকনাফ পৌরসভা থেকে শাহপরীর দ্বীপকে সংযুক্ত করা নবনির্মিত ও দৃষ্টিনন্দন প্রধান সড়কটির দুই পাশে এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি কালিমাখচিত পতাকা।
সাদা কাপড়ে কালো অক্ষরে পবিত্র ইসলামের মূল বাণী ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ খচিত এই পতাকাগুলো পুরো এলাকায় এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ ও পবিত্রতার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। নাফ নদীর কোল ঘেঁষে যাওয়া এই আধুনিক সড়কটি নির্মাণের পর থেকেই এখানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সড়কের দুই পাশে সুনির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধভাবে এই পতাকাগুলো স্থাপন করার পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে।
মৃদু বাতাসে যখন পতাকাগুলো একসঙ্গে পতপত করে উড়তে থাকে, তখন পুরো নাফ নদী ও সাগর তীরবর্তী এই অঞ্চলে এক অভূতপূর্ব ধর্মীয় ও আত্মিক গাম্ভীর্য তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নয়নাভিরাম দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এই নতুন রূপ প্রত্যক্ষ করতে দেশের এই সর্বশেষ স্থলভাগে ছুটে আসছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও টেকনাফ উপজেলা দক্ষিণ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাফি বলেন, দীর্ঘ এক দশক আমরা যাতায়াতের জন্য সীমাহীন কষ্ট ভোগ করেছি। এখন সরকার আমাদের যেমন সুন্দর একটি রাস্তা উপহার দিয়েছে, ঠিক তেমনি রাস্তার দুই ধারের এই পবিত্র কালিমাখচিত পতাকাগুলো আমাদের এলাকায় প্রবেশ করতেই মনকে এক স্বর্গীয় শান্তিতে ভরিয়ে দেয়। এটি আমাদের ইসলামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।
টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপ জেলা মহাসড়কের এই বিশেষ সৌন্দর্য নিয়ে ঘুরতে আসা ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইয়ান আহমেদ জানান, নাফ নদী ও পাহাড়ের মেলবন্ধনে এই রাস্তাটি এমনিতেই ভীষণ সুন্দর। কিন্তু এই আধ্যাত্মিক পতাকাসমূহ পুরো পরিবেশকে যেন অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি এক অদ্ভুত পবিত্রতার অনুভূতি কাজ করে, যা সত্যিই অতুলনীয়।
এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম অনীক চৌধুরী বলেন, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ আমাদের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময় পর্যটন অঞ্চল। দীর্ঘ দুর্ভোগের পর নবনির্মিত এই আধুনিক সড়কটি স্থানীয় যাতায়াত ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। সড়কের দুই পাশে স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবে যে কালিমাখচিত পতাকাগুলো লাগানো হয়েছে, তা এখানকার সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পর্যটকরা যাতে এখানে এসে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভ্রমণ করতে পারেন, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে।
স্থানীয় সমাজসেবক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই নতুন সংযোজন শাহপরীর দ্বীপকে কেবল সাধারণ পর্যটনের জায়গা হিসেবেই নয়, বরং ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষের কাছেও একটি অন্যতম আকর্ষণীয় ও প্রশান্তিময় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।