মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’র (এইচআরএসএস) ১২ তম জাতীয় মানবাধিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ‘ইসফেন্দিয়ার জাহেদ হাসান’ মিলনায়তনে দিনব্যাপি এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
‘রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের অবসান, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান’ শীর্ষক এই জাতীয় মানবাধিকার সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাম্পাওয়ার ইয়োথ, সিকিউর রাইটস’।
সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা, গুম, কারাগারে মৃত্যু, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, শ্রম অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার মতো সমসাময়িক মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এইচআরএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
বিশেষ অধিবেশনে ‘রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন: ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতার প্রশ্ন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন ২০১৪ সালে পল্লবীতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত ইশতিয়াক হোসেন জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন হোসেন রকি, ২০১৫ সালে পুলিশের গুলিতে পা হারানো সাতক্ষীরার রুহুল আমিন।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন এইচআরএসএস’র উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন। এ সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলে থাকলে নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘণের শিকার হন, কিন্তু তারা ক্ষমতায় গেলে এগুলো ভুলে যান। বিষয়টা কি এরকম যে, ক্ষমতায় গেলে বাহিনীগুলো তাদের হয়ে কাজ করবে। তাই তারা কিছু বলতে চান না।
গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য থাকাকালীন কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যদি গুমের মতো ভয়াভহ অভিযোগের বিচার না হয় তাহলে ভবিষ্যতে কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
নূর খান লিটন বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে নির্যাতন, নীপিড়ন দেখেছি। এখন ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে এমন কিছু মামলা দেখতে হচ্ছে কোনো মামলায় জামিন পেলেই আটকে রাখান জন্য শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। এক মামলায় জামিন পেলে নতুন আরেকটি মামলায় নাম দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট্রের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু (নিবারণ) আইনটি কিভাবে কার্যকর করা যায়, সেই আলোচনা শুনিনা। এই আইনে আমরা মাত্র একটি রায় পেয়েছি। তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের ঘটনা অসংখ্য। কিন্তু প্রতিকারের সংখ্যার ক্ষেত্রে আকাশ-পাতাল তফাৎ। ভূক্তভোগীরা অসহায় অবস্থায় থাকেন।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ‘মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি প্রমুখ। পরবর্তী অধিবেশনে ‘সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিহত ফেলানী খাতুনের বাবা নুর ইসলাম, সীমান্তে নিহত মুরসালিনের বড় ভাই ইয়াসিন মিয়া।
সম্মেলনের অতিথি বক্তব্য পর্বে বক্তব্য রাখেন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ‘বাংলাদেশের মানবাধিকারের ব্যবচ্ছেদ’ শিরোনামে তার বক্তব্য ধুলে ধরেন।
এসময় আরও বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের বাংলাদেশ অফিসের মানবাধিকার কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
দুপুরে সমাপনী অধিবেশনে দ্বিতীয় জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সমাপনী বক্তব্য রাখেন এইচআরএসএস’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাদা আল আমিন কবির।