রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দ্রুত অভিযানে রহস্য উদঘাটনসহ ৪জনকে গ্রপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)সূত্রাপুর থানা পুলিশ। শনিবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্রাপুর এলাকায় তাজিয়া মিছিল চলাকালীন সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত চালিয়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সূত্রাপুর থানা পুলিশ। শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব কথা বলেন।
সূত্রাপুর থানা জানায়, গত শুক্রবার বিকেল ৪টার সময় রাজধানীর সূত্রাপুর থানাধীন বিবিকা রওজা ইমামবাড়া থেকে একটি তাজিয়া মিছিল চকবাজার-লালবাগ হয়ে ধানমণ্ডির উদ্দেশে রওনা করে। ওই তাজিয়া মিছিলটি বাংলাবাজার অতিক্রমের সময় বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটের সময় পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচতলায় অজ্ঞাতনামা কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক অজ্ঞাতনামা এক যুবককে এলোপাথাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ভুক্তভোগী ও হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, ভুক্তভোগীর নাম মো. জাকির হোসেন (৩১)। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করত মর্মে জানা যায়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীর বড় ভাই অজ্ঞাতনামা ১৪ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের পরিচয় শনাক্ত করে এবং সূত্রাপুর থানার একাধিক অপারেশন টিম ২৬ জুন রাতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো একজন মো. রাশেদ (২০)। বাকি তিনজন সংঘাতে জড়িত অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ সময় তাদের কাছে থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি চাপাতি, ঘটনার সময় তাদের পরনে থাকা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত মূলত তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির রশি ধরাকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনায় নিহত যুবকের সঙ্গে হামলাকারীদের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ওই যুবককে হামলাকারীরা ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।