অবিশ্বাস্য

১৯৭৭ থেকে ছুটছে ভয়েজার

মহাবিশে^র শেষ কোথায়? বর্তমানে ভয়েজার-১ অসীম রহস্যের একেকটি বিন্দু অতিক্রম করছে। সবচেয়ে দূরবর্তী সক্রিয় মহাকাশযান ভয়েজার প্লুটোনিয়ামের তাপ থেকে উৎপাদিত শক্তির মাধ্যমে চলে। সেই প্লুটোনিয়ামের শক্তি ক্ষয় হচ্ছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এই যান ১৯৭৭ সালে পৃথিবী ছেড়েছিল। এরপরও এক আলোকবর্ষের ৩০০ ভাগের এক ভাগ (০.০০৩ আলোকবর্ষ) অতিক্রম করতে পারেনি। মানুষের তৈরি কোনো যান, এর চেয়ে দূরে যেতে পারেনি। পৃথিবী থেকে সূর্যের যে দূরত্ব, এখন সূর্য থেকে ১৭০ গুণ দূরে ভয়েজার-১। ভয়েজার-১ এখন যে গতিতে চলছে, তাতে এক আলোকবর্ষ দূরত্ব অতিক্রম করতে ১৭ হাজার বছর লাগবে। আগামী ৪০ হাজার বছরে সেটি ১.৬ আলোকবর্ষ দূর দিয়ে যাবে। সূর্য ছাড়া সেটিই হবে মহাজগতের দ্বিতীয় নক্ষত্র, যার এত কাছ দিয়ে যাবে ভয়েজার-১। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ‘কসমিক রে সাবসিস্টেম’ বন্ধ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘লো-এনার্জি চার্জড পার্টিকেল’ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মাত্র দুটি  বৈজ্ঞানিক যন্ত্র চালু রয়েছে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র পরিমাপ করছে এবং অন্যটি প্লাজমা তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী এক বছরে এর শক্তি আরও কমবে। তখন তার কোনো যন্ত্র সক্রিয় থাকবে না। তবে ভয়েজার-১ থামবে না। সে নির্দিষ্ট গতি ধরেই মহাকাশে ছুটে বেড়াবে, অন্ধকার অবস্থায়। এভাবে চলতে চলতে এক আলোকবর্ষ দূরত্ব পাড়ি দিতে ওই যানের হাজার হাজার বছর সময় লেগে যাবে। কত দিন তার যন্ত্র চালু রাখা যাবে? তারপর ওই মহাকাশযানে আর নজর রাখা যাবে না। কোনো রেডিও সঙ্কেত দেবে না ভয়েজার-১। শুধু সে অসীমের উদ্দেশে ছুটে যাবে। এরপর কী হবে কেউ সঠিক কিছু বলতে পারছে না। তবে নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন কোনো সমস্যা নেই। সে চলতেই থাকবে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।