ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যে হঠাৎ আইসিসি থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) পাঠানো একটি চিঠি ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। গত ২১ জুন বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসির কাছে ১৫ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত, আইসিসির তহবিল বন্ধ এবং সব ধরনের বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশ দলকে বাদ দেওয়ার অনুরোধসহ বেশ করেকটি অভিযোগ আনা হয়। তবে চিঠির খবর প্রকাশ্যে আসার পর বুলবুল এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হবে এমন কোনো অভিযোগ তিনি করেননি। ওই চিঠি পাওয়ার পর বিসিবির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আইসিসি। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ পরবর্তী কার্যনির্বাহী সভায় বিষয়টি আলোচনা করে জবাব দেবে।
তবে এ বিষয়ে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্যই আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে করতে না চাওয়ার শর্তে একজন পরিচালক বলেন, ‘আইসিসি থেকে এই চিঠি তো আর আমাদের এমনিতেই পাঠানো হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবেই পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে যে অভিযোগগুলোর কথা উল্লেখ আছে, সেগুলো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। আমরাও আমাদের মতো করে ব্যাখ্যা দেব।’ তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু দেখছেন না তিনি, ‘এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। আইসিসি অভিযোগ পেয়েছে, তাই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে। আমরা আমাদের দিক থেকে যা জানানোর প্রয়োজন, সেটিই জানাব।’ বুলবুলের চিঠির জবাব বিসিবি কবে দেবে এমন প্রশ্নে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ রাব্বানী বলেন, ‘বোর্ডে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
চিঠির কিছু অংশ দেশ রূপান্তর-এর হাতে এসেছে। সেখানে বুলবুল এখনো নিজেকে বিসিবির নির্বাচিত সভাপতি বলে দাবি করেছেন। যদিও গত ৭ এপ্রিল অস্বচ্ছ নির্বাচনের অভিযোগ তুলে সাবেক এই অধিনায়কের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তামিমকে সভাপতি করে একটি অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। পরে জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলশিপে পরিবর্তন আনে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এই অভিভাবক সংস্থা। পরে অ্যাডহক কমিটির অধীনে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সভাপতি হন তামিম।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ২৫ জন পরিচালকের অধিকাংশেরই সরকারদলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে অথবা তারা এমপি-মন্ত্রীদের ভাই বা
সন্তান। সরকারি প্রভাবের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত করা, আইসিসির তহবিল বন্ধ করা কিংবা বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ চিঠিতে করা হয়নি বলেই দাবি করেছেন কয়েকজন সাবেক পরিচালক।
তাদের একজন আদনান রহমান বলেন, ‘আমরা বারবার কাউন্সিলরদের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের বোর্ড থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে দিয়ে কী করা হয়েছে, সেটি তুলে ধরেছি। কোনো আর্থিক অনুদান বন্ধ করা বা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করার মতো কোনো কথা চিঠিতে থাকার কথা নয়। বুলবুলের সঙ্গে আমাদের এমনই আলোচনা হয়েছে।’ একই দাবি করেন ওই বোর্ডের আলোচিত পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম, ‘চিঠিতে মূলত বর্তমান বোর্ডের সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয়, তাদের বোর্ডে আসার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী অনিয়মগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনুদান বন্ধের মতো কোনো অনুরোধ আমরা করিনি। এমন কিছু করতে চাইলে আমরা অনেক আগেই করতাম।’
তবে আইসিসিকে চিঠিটি পাঠানোর আগে তারা নিজেরা পড়ে দেখেননি বলেও জানান। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বুলবুলকে চিঠি পাঠানোর দায়িত্ব দেন তারা। তাদের সিদ্ধান্ত ছিল ১০ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠানো হবে। কিন্তু বুলবুলের পাঠানো চিঠিটি কীভাবে ১৫ পৃষ্ঠার হলো, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে পাচ্ছেন না সাবেক পরিচালকদের অনেকেই।