ইউক্রেনের ড্রোন কৌশলে রুশ বাহিনীর সরবরাহ লাইনে ধস

ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের মধ্যম পাল্লার ড্রোন কৌশল রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। ব্রিজ, ট্রেন ও জ্বালানি বহনকারী ট্রাক লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় দক্ষিণ ফ্রন্টে রুশ বাহিনীর রসদ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন বিশ্লেষণ সংস্থা। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনেএ তথ্য উঠে এসেছে।

ফরাসি ওপেন সোর্স বিশ্লেষক ক্লেমঁ মলিন এবং স্বেচ্ছাসেবী ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) গ্রুপ জিওকনফার্মড ও সিএনএনের ওএসআইএনটি দল অন্তত ১৫০টি হামলার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করেছে। এসব হামলায় জ্বালানি ট্যাংকার, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এর চেয়েও বেশি হামলা নথিভুক্ত হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ হামলাই মে মাসের শুরু থেকে সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর অবকাঠামো ও জাহাজেও হামলা বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার ইউক্রেনীয় তৈরি ড্রোনগুলো রুশ সেনাদের লজিস্টিক ব্যবস্থা দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ড্রোনের মধ্যে রয়েছে এফপি-২ এবং ‘বেহেমথ’ নামের একটি নতুন মডেল, যা ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং প্রায় ৭০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।

বিশ্লেষক ক্লেমঁ মলিন বলেন, ইউক্রেন ধীরে ধীরে এমন একটি বড় পরিসরের ড্রোন অভিযান চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে ক্রিমিয়াকে মূল সরবরাহ পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে এবং রাশিয়ার লজিস্টিক ব্যবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, রাশিয়া-সমর্থিত ক্রিমিয়ার আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে জ্বালানি কেবল সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, সাধারণ নাগরিক বা ব্যবসায়ীরা তা পাচ্ছেন না।

ইউক্রেন জানিয়েছে, গত এক বছরে মধ্যম পাল্লার ড্রোন অভিযানের সংখ্যা ২৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার আক্রমণ সক্ষমতা দুর্বল করা, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং অধিকৃত অঞ্চলে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দীর্ঘ পাল্লার ড্রোন হামলার জন্য করিডর তৈরি করা।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ক্রিমিয়াকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে। এর ফলে রুশ বাহিনীর জন্য জ্বালানি ও গোলাবারুদ সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে রাশিয়া-সমর্থিত এক সামরিক ব্লগার স্বীকার করেছেন, নিয়মিতভাবে পেট্রোল ট্যাংকার ও ট্রাকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। তার ভাষায়, ক্রিমিয়াকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সংযোগগুলো একে একে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।