কোডিংয়ে এআই-এর ভুলে দিশেহারা প্রতিষ্ঠান? বাঁচাবে এই নতুন প্রযুক্তি

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা বর্তমানে কোডিংয়ের বড় একটি অংশ এআই-এর ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে কোডিংয়ে ত্রুটি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যর্থতার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে একটি নতুন শিল্প গড়ে উঠছে, যা এআই টুলগুলোকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করে তুলছে।

এই নতুন ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠান হলো সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক স্টার্টআপ ‘কজাল ডাইনামিকস ল্যাবস’। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ৮ মিলিয়ন ডলারের সিড ফান্ডিং সংগ্রহ করেছে। তাদের তৈরি প্ল্যাটফর্ম ‘সিয়িলারা’ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এআই কোডিংয়ের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, ‘যখন কোনো ইঞ্জিনিয়ার বা এআই কোম্পানির সফটওয়্যারে পরিবর্তন আনে, তখন সেটি গ্রাহকদের কাছে যাওয়ার আগে বোঝা যায় না ঠিক কোথায় সমস্যা তৈরি হবে। সিয়িলারা সফটওয়্যারের ভেতরটা একজন চিকিৎসকের এমআরআই দেখার মতো করে বিশ্লেষণ করে এবং প্রতিটি পরিবর্তনের প্রভাব আগেভাগেই পরীক্ষা করে নেয়।’

হাসিবুল হক আরও জানান, একজন দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যেভাবে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করেন, সিয়িলারা ঠিক সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে। এটি সব পরিবর্তনের রেকর্ড রাখে, যা এআই সমাধানে সচরাচর দেখা যায় না।

সম্প্রতি গুগলের ডোরার রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোডিংয়ে এআই-এর ব্যবহার ব্যাপক হারে বাড়লেও সফটওয়্যারের স্থিতিশীলতা ৭.২ শতাংশ কমে গেছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সফটওয়্যার পেশাজীবী এআই-কে কোড তৈরির দায়িত্ব দিতে অস্বস্তি বোধ করছেন।

কজাল ডাইনামিকস ল্যাবসের গবেষণায় দেখা গেছে, এআই কোডিং এজেন্টের মূল সমস্যা হলো প্রতিষ্ঠানের প্রেক্ষাপট বা কনটেক্সট বুঝতে না পারা। হাজার হাজার সেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছে যে, এআই এজেন্টরা বেশিরভাগ সময় কোডিং না করে সিস্টেমের ফাইল খুঁজতে সময় ব্যয় করে। অর্থাৎ, তারা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সফটওয়্যার কাঠামোর সাথে সংগতি রাখতে হিমশিম খায়।

এই সমস্যার সমাধানে স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠানের একটি ‘ডিজিটাল টুইন’ বা ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি তৈরি করে। হাসিবুল হক ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থার একটি বিশ্ব মডেল বা ম্যাপ তৈরি করি, যাতে কোডিংয়ের প্রতিটি পরিবর্তন নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত ও পরীক্ষিত হয়।’

গত বছর যাত্রা শুরুর পর থেকেই বাণিজ্যিক সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ৪০টিরও বেশি ফরচুন ৫০০ কোম্পানি সিয়িলারা প্ল্যাটফর্মটি পরীক্ষা করছে এবং তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ ইতোমধ্যে নিয়মিত গ্রাহক হয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর এআই কোডিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপ বাড়ছে। একই সাথে কোড রিভিউয়ের বাজারে কোড্যাসি, সোলারকিউব এবং স্নিক কোডের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরাও সক্রিয় রয়েছে।

একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বোর্ড ও অডিটরদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। তারা ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে ঝুঁকি আসার আগেই তা শনাক্ত করার অকাট্য প্রমাণ চান।

এ বিষয়ে ই-কমার্স সার্চ ইঞ্জিন ডেড্রিম-এর প্রাক্তন সিটিও এবং ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অ্যাডজান্ট প্রফেসর ম্যাট ফিশার বলেন, ‘এআই তথ্য পাওয়ার পদ্ধতি বদলে দিয়েছে, এখন সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি বদলানোর। কোনো কাজ করার আগে তার সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, তা যাচাই করার সক্ষমতা এখন দলগুলোর থাকা জরুরি।’