ডিজিটাল ওয়ালেট নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:০২ এএম

নগদ লেনদেনের পাশাপাশি এখন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ডিজিটাল ওয়ালেট। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট, বিল পরিশোধ, কেনাকাটা কিংবা অর্থ স্থানান্তরের মতো নানা কাজে প্রতিদিনই এসব সেবা ব্যবহার করছেন লাখো মানুষ। তবে ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে সাইবার প্রতারণা, ফিশিং, ভুয়া অ্যাপ এবং তথ্য চুরির ঝুঁকি। সামান্য অসাবধানতায় ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থের ক্ষতি হতে পারে। তাই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারে কয়েকটি নিরাপত্তা অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও পিন ব্যবহার করুন

জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর বা ১২৩৪৫৬-এর মতো সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। পিন এমনভাবে নির্ধারণ করুন, যা অন্যের পক্ষে অনুমান করা কঠিন। পাসওয়ার্ডে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সমন্বয় থাকলে নিরাপত্তা আরও বাড়ে। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার না করাই ভালো।

দুই স্তরের নিরাপত্তা (2FA) চালু রাখুন

অনেক ডিজিটাল ওয়ালেট অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসেবে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) সুবিধা দেয়। এটি চালু থাকলে পাসওয়ার্ড জানলেও অতিরিক্ত যাচাইকরণ ছাড়া কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। সম্ভব হলে এসএমএসের পরিবর্তে অথেন্টিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করুন।

ওটিপি, পিন ও পাসওয়ার্ড গোপন রাখুন

ওটিপি (OTP), পিন, পাসওয়ার্ড বা নিরাপত্তা কোড কখনোই ফোন, এসএমএস, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। কোনো প্রতিষ্ঠান বা গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি এসব তথ্য চাওয়ার কথা নয়। এ ধরনের অনুরোধ এলে সেটিকে প্রতারণার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করুন।

কেবল অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন

ডিজিটাল ওয়ালেটের অ্যাপ সবসময় গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরের মতো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে ডাউনলোড করুন। অজানা ওয়েবসাইট, তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ স্টোর বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া লিংক থেকে অ্যাপ ইনস্টল করলে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ফোনে প্রবেশ করতে পারে।

নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করুন

স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও ওয়ালেট অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করুন। নতুন আপডেটে সাধারণত নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি দূর করা হয় এবং নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হয়। আপডেট এড়িয়ে গেলে পুরোনো দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা আক্রমণ চালাতে পারে।

পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে আর্থিক লেনদেন এড়িয়ে চলুন

রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, বিমানবন্দর বা অন্যান্য স্থানের উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন না করাই নিরাপদ। এসব নেটওয়ার্কে তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। প্রয়োজন হলে মোবাইল ডাটা বা নিরাপদ ব্যক্তিগত ওয়াই-ফাই ব্যবহার করুন।

লেনদেনের নোটিফিকেশন চালু রাখুন

এসএমএস বা অ্যাপ নোটিফিকেশন চালু রাখলে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারবেন। আপনার অজান্তে কোনো লেনদেন হলে দ্রুত তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

ফোনে স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন

ফোনে শক্তিশালী পিন, পাসওয়ার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলক ব্যবহার করুন। এতে ফোন হারিয়ে গেলেও অন্য কেউ সহজে আপনার ডিজিটাল ওয়ালেট বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করতে পারবে না।

সন্দেহজনক লিংক ও বার্তা থেকে সতর্ক থাকুন

ক্যাশব্যাক, পুরস্কার, কেওয়াইসি হালনাগাদ বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, এ ধরনের বার্তা দিয়ে প্রতারকরা ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যেতে পারে। কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে প্রেরকের পরিচয় নিশ্চিত করুন এবং ঠিকানাটি ভালোভাবে যাচাই করুন।

নিয়মিত লেনদেনের হিসাব পর্যালোচনা করুন

সময় সময় অ্যাকাউন্টের লেনদেনের ইতিহাস পরীক্ষা করুন। কোনো অস্বাভাবিক বা অচেনা লেনদেন নজরে এলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজন হলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

ফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে দেরি না করে ডিজিটাল ওয়ালেটের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ব্লক করুন এবং সিম কার্ড বন্ধ করার জন্য মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করতে ভুলবেন না

নিজের ফোন ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইসে ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করলে কাজ শেষে অবশ্যই লগআউট করুন। ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ বা স্বয়ংক্রিয় লগইন সুবিধা ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

মনে রাখবেন, ডিজিটাল ওয়ালেট নিরাপদ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতন ব্যবহার। শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকলে অনলাইন লেনদেন অনেক বেশি নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত