ফুটবলীয় রোমাঞ্চের চূড়ান্ত দৃশ্যপট তৈরি হলো কানসাস সিটিতে। যোগ করা সময়ের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পেন্ডুলামের মতো দুলল তিন দেশের ভাগ্য। ম্যাচের ৯৪ মিনিটে গোল করে আলজেরিয়া যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, তখন মেক্সিকোর বেস ক্যাম্পে বসে উল্লাসে মেতে উঠেছিল ইরান। কিন্তু ৯৬ মিনিটে ম্যাচের শেষ কিকের জাদুতে সমতা ফিরিয়ে সব হিসাব ওলটপালট করে দিল অস্ট্রিয়া। ৩-৩ গোলের এই অবিশ্বাস্য ও রুদ্ধশ্বাস ড্রয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে শেষ ৩২-এ পা রাখল আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া। আর রূপকথার খুব কাছে গিয়েও চরম নাটকীয়তায় হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হলো ইরানকে।
‘জে’ গ্রুপের এই ম্যাচটি ড্র করলেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত হতো আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার। তবে মাঠের ফুটবলে তার কোনো প্রভাব ছিল না; শুরু থেকেই দুই দল মেতে ওঠে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পসরায়। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৩৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার মার্কো আর্নাউতোভিচের গোলে প্রথমে লিড নেয় অস্ট্রিয়া। এরপর আলজেরিয়া সমতায় ফিরলে দ্বিতীয়ার্ধে আবারও এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়ানরা। তবে রিয়াদ মাহরেজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ম্যাচে ফেরে আলজেরিয়া।
ম্যাচের আসল নাটক তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মাহরেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলজেরিয়া, যা অস্ট্রিয়াকে বিদায়ের দুয়ারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।
ঠিক তখনই ঘটে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার কয়েক সেকেন্ড আগে, ৯৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় সাশা কালাইজদজিচের এক বুলেট গতির হেডে সমতায় ফেরে অস্ট্রিয়া। এই এক গোলেই মাঠের বাইরের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। একসঙ্গে পরের রাউন্ডের টিকিট কাটে আলজেরিয়া এবং দীর্ঘ ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠার ইতিহাস গড়ে অস্ট্রিয়া।
অন্যদিকে, ৩ পয়েন্ট নিয়ে টাইব্রেকারের জটিল সমীকরণে টিকে থাকা ইরানের স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় শেষ মুহূর্তের এই গোলে। রাজনৈতিক বৈরিতা, ভিসা জটিলতা আর অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় বেস ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার মতো হাজারো প্রতিকূলতা সামলে মাঠের লড়াইয়ে আশা জাগিয়েছিল এশিয়ান পরাশক্তিরা। কিন্তু অস্ট্রিয়ার শেষ মুহূর্তের ওই এক হেডেই শেষ হয়ে গেল তাদের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা। এ যেন ফুটবল দেবতার এক নির্মম স্ক্রিপ্ট, যেখানে দুই দলের সমতায় ট্র্যাজেডির নায়ক হতে হলো অন্য এক দলকে।