আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ধ*র্ষণের অভিযোগে তদন্তের মুখে কেপভার্দে অধিনায়ক

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ থেকে রানার্স-আপ হয়ে ইতিহাস গড়ে নকআউটে উঠেছে আফ্রিকার দেশ কেপভার্দে। আগামী শুক্রবার মায়ামিতে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা। তবে মাঠের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের উৎসব ফিকে হয়ে গেছে এক মারাত্মক আইনি কেলেঙ্কারিতে। দলের ৩৬ বছর বয়সী অধিনায়ক ও ফরোয়ার্ড রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে এক ব্রাজিলীয় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ।

গত ১০ এপ্রিল থেকে অকল্যান্ড সেন্টাল পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। ব্রাজিকের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জিই’ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল রিপোর্ট এবং তাঁর শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্নের ছবি হাতে পাওয়ার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।?

ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের ২৭ মার্চ, নিউজিল্যান্ডের ওকল্যান্ডে ‘ফিফা সিরিজ’ চলাকালীন। ভুক্তভোগী ব্রাজিলীয় নারী নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সেখানে দোভাষী ও লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে কেপভার্দে দলের সাথে কাজ করছিলেন। কাজের সুবিধার্থে তিনি দলের সাথেই ২৪ ঘণ্টা একই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দি: চিলির বিপক্ষে ম্যাচ শেষে (যেটিতে কেপভার্দে ৪-২ ব্যবধানে হারে) তাঁকে দলের একটি মিটিং রুমে ডাকা হয়। সেখানে কাজের কোনো পরিবেশ না দেখে এবং শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় তিনি নিজের রুমে ফিরে যান। এর কিছুক্ষণ পর তাঁর রুমের দরজায় নক করা হলে অফিশিয়াল কোনো কাজ ভেবে তিনি দরজা খোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তখনই রায়ান মেন্দেস জোরপূর্বক রুমে প্রবেশ করেন এবং ওই নারীকে কিল, ঘুষি ও কামড় দিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার পর ধর্ষণ করেন।

ঘটনার পর ওই নারী তাঁর ঠোঁট, গলা এবং শরীরের পাশের বিভিন্ন ক্ষত চিহ্নের ছবি তোলেন। পরবর্তীতে যৌন সহিংসতা থেকে বেঁচে যাওয়াদের জন্য তৈরি একটি বিশেষ ক্লিনিকে তাঁর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। মেডিকেল রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, তাঁর স্তন, গলা, ঠোঁটে একাধিক গভীর ক্ষত এবং যৌনাঙ্গে দুটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিউজিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি  ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। দেশটির কঠোর গোপনীয়তা আইনের কারণে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম প্রকাশ করেনি। তবে তিন মাস আগে সম্পন্ন হওয়া ফরেনসিক টেস্টের চূড়ান্ত লাউড বা রিপোর্ট আসার পর পুলিশ আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউজিল্যান্ডের আইন অনুযায়ী যৌন সহিংসতার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিউজিল্যান্ডের সাথে কেপভার্দের কোনো অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই।

গত ১০ মে ভুক্তভোগী নারী এবং তাঁর স্বামী ফিফা এবং কেপভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে মেন্দেসকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠান। ২০ মে ফিফার বিশেষ ‘সেফগার্ডিং’ ফর্মের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানো হয়।

শনিবার রাতে এই খবরটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর **ফিফা এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে:**

“ফিফা যেকোনো ধরনের অসদাচরণের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। আমাদের স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সংস্থাগুলো চলমান তদন্ত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করে না। তবে ফিফা এই বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।”

অন্যদিকে কেপভার্দে ফুটবল ফেডারেশন এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এমনকি সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের পর হিউস্টনে দলের মিডিয়া অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এটিকে মেন্দেসের ‘ব্যক্তিগত সমস্যা’ বলে এড়িয়ে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত