কোনো পরিবার যখন কোরআনকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দেয়, তখন সেটার সুফল ছড়িয়ে পড়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ঘরের পরিবেশই হয়ে ওঠে ইমান, জ্ঞান ও আমলের পাঠশালা। এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনার তিন বোন। একই দিনে পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারা সম্পূর্ণ মুখস্থ করে তারা দেখিয়েছে পারিবারিক উৎসাহ, আন্তরিক সাধনা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে শৈশবেই কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
ইন্টারন্যাশনাল কোরআন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি প্রিস্টিনার ‘লিটল মেমোরাইজার্স একাডেমি’-এর শিক্ষার্থী আসিয়া, আতিকা ও সারা ইবিশি নামের তিন বোন একদিনেই ৩০ নম্বর পারা মুখস্থ সম্পন্ন করে। একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি পারিবারিক উৎসাহ এবং কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসার ফল।
তিন বোনের পরিবারে কোরআন শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে তাদের কাছে কোরআন শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়, বরং জীবন পরিচালনার পথনির্দেশক। পরিবারের সবাই কোরআনের শিক্ষা ও চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এক বোনের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করেছে।
এই অর্জনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিন বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সারা ইবিশির বয়স। সে মাত্র তিন বছর বয়সে কোরআন শেখা শুরু করে এবং চার বছর বয়সেই ৩০তম পারা মুখস্থ করার সৌভাগ্য অর্জন করে।
একাডেমির মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা, উপযুক্ত শিক্ষাপদ্ধতি এবং পারিবারিক সহযোগিতা থাকলে শিশুরা খুব অল্প বয়স থেকেই কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
একাডেমি আরও জানিয়েছে, ৩০তম পারা মুখস্থ করাই তাদের শিক্ষাযাত্রার শেষ লক্ষ্য নয়। বরং এটি কোরআনের সঙ্গে আজীবনের সম্পর্ক গড়ে তোলার সূচনা। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা কোরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি এর অর্থ বোঝা, শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং কোরআনিক মূল্যবোধ চরিত্রে ধারণ করার দিকেও গুরুত্ব পাবে।
‘লিটল মেমোরাইজার্স একাডেমি’ দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের হৃদয়ে কোরআনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি এবং কোরআনকেন্দ্রিক একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, একটি আদর্শ কোরআনিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শৈশবই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং এ ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি।