ঢাকা মাতালো সৌধ

ঊনবিংশ শতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান কবি, ঔপন্যাসিক ও চিত্রশিল্পী ভিক্টর হুগোর ‘ওডস এট বেলাডেস’ কাব্যগ্রন্থের ২০০ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকায় অলিয়ঁস ফ্রসেজেঁর নুভেল ভ্যাগ মিলনায়তনে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সৌধের কবিতা ও সংগীতালেখ্য ‘হুগো থ্রু বেঙ্গলি মিস্টিক্স’ নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ঢাকার শিল্পপিপাসু দর্শকরা।

অনুষ্ঠান শেষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক জানান, ঢাকায় এই মাপের অনুষ্ঠান খুব কম উপভোগ করেছি। ভিক্টর হুগোকে পুনর্পাঠের ক্ষেত্রে এ রকম অপূর্ব পরিবেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

অলিয়ঁস ফ্রসেজেঁর পরিচালক ফ্রাসোয়া শাম্ব্রু বলেন, প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের এ রকম সম্মোহনী অভিসার বাংলাদেশে আমি পরিচালক থাকার সময় দেখেছি বলে মনে পড়ে না। ভিক্টর হুগোর কবিতা দিয়ে প্রকারান্তরে বাংলার মরমি সংগীতের সৌন্দর্য আবিষ্কার করতে পেরে আমি অভিভূত বোধ করছি। সৌধকে আমি আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখছি যেন বছরের বিভিন্ন সময় আমাদের এই ভেন্যুতে এ রকম আরও নতুন নতুন শিল্প-প্রকল্প মঞ্চায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

কবি ও সাংবাদিক জুনান নাশিত জানান, ঢাকায় এই মাপের অনুষ্ঠান দেখতে পারা রীতিমতো সৌভাগ্যের। এই সুযোগগুলো আমাদের জন্য খুব সচরাচর আসে না। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছি প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত-কী সংগীত, কী হুগোর হৃদয়স্পর্শী কবিতা! অথবা দুই ঐতিহ্য সম্মিলনের ধারণাটুকুও!

সৌধ পরিচালক টিএম আহমেদ কায়সার জানান, আমাদের জন্য এই অসামান্য অভিজ্ঞতা খুব তৃপ্তির। বিশেষত যখন আমরা ব্রিটেনের গণ্ডি পার হয়ে দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপ বা প্রতীচ্যের অন্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি আমাদের বিচিত্র শিল্পপ্রকল্প দিয়ে। পিনপতন নীরবতা নিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ অডিটোরিয়ামে স্বনামধন্য কবি, লেখক, সংগীতশিল্পী, বুদ্ধিজীবী, নাট্য-নৃত্য-অভিনয়শিল্পী, একাডেমিক, আইনজীবী ও শিল্পপিপাসু দর্শকরা আমাদের এই পরিবেশনা আদ্যোপান্ত উপভোগ করেছেন, আমাদের কাজ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এটুকু প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। ব্রিটেনে আমাদের কাজ নিয়ে ঢাকার শিল্পবোদ্ধাদের মধ্যে যে কৌতূহল লক্ষ্য করেছি তাও ভীষণ আনন্দের।

টি এম আহমেদ কায়সারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন তরুণ ব্যানজো বাদক সাব্বির শাহ, ইতালিয়ান জ্যাজশিল্পী মার্থা, চিত্রশিল্পী তারেক আমিন, সরোদ বাদক রুমন তারা। ভিক্টর হুগো থেকে পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনাসিব কামাল। আলোক প্রক্ষেপণ, কবিতা ও সংগীতের দৃশ্য-ভাষ্য রচনায় ছিলেন আলোকচিত্রী পাবলো খালেদ। নেপথ্য ব্যবস্থাপনা ও ভিডিওডকুমেন্টেশনে ছিলেন চলচ্চিত্রকার মৃত্তিকা কামাল ও উজান।

ব্রিটেনে দক্ষিণ এশীয় ধ্রুপদী শিল্পের শীর্ষ সংস্থা সৌধ গত পনেরো বছর ধরে রয়্যাল আলবার্ট হল, সাউথ ব্যাংক সেন্টার, হাউজ অব কমন্স, স্কটিশ পার্লামেন্ট, ওয়েলশ পার্লামেন্টসহ ব্রিটেনের প্রায় উল্লেখযোগ্য সব আর্ট ও একাডেমিক ভেন্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন ধ্রুপদী শিল্পের সমন্বয়ধর্মী সম্মোহনী পরিবেশনা দিয়ে মূলধারার দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।