অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম

আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল রবিবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত ইসির দীর্ঘ বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরেই কাজ এগোচ্ছে ইসি। আর অক্টোবরে হলে এর ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আমরা মূলত অক্টোবর ধরেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

বৈঠকের আলোচনার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, সব ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া বিষয়ে কমিশন অবহিত হয়েছে। ৪ হাজার ৫০০ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করতে হলে কোনটা আগে বা কোনটা পরে করব তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব জিনিসপত্র প্রস্তুত আছে কি না সেটাও অবহিত করা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত নির্বাচনের চেয়ে কিছু ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের পরপর এই স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় আমাদের ব্যালট বাক্স প্রস্তুত। প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ হবে। এসবের প্রস্তুতিও আছে।

তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও নতুন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও কিছুটা বাড়তে পারে। আমরা এটা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা করেছি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেব না।

আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এবারের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো হবে নির্দলীয়, অর্থাৎ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার থাকছে না। তারপরও আমরা মনে করছি, যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে; কাজেই ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছাই হোক, নির্দলীয় নির্বাচনে তারাও ইনভলভ থাকবেই। এ কারণেই তাদের কাছে মতামত জানতে চেয়েও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কবে নাগাদ আচরণবিধির খসড়াগুলো চূড়ান্ত করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অংশীজনের মতামত পাওয়ার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়। এ সময়ের মধ্যে আমরা করে ফেলতে পারব। আমরা আইনকানুন দেখেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিকসহ যে কেউ এ বিষয়ে মতামত দিতে পারবেন এবং সবার গ্রহণযোগ্য মতামত নিয়েই খসড়া আচরণ বিধিমালায় সংযোজন-বিয়োজন আনা হবে বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকারের পৃথক পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য খসড়া আচরণ বিধিমালা ইতিমধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে এসব নিয়ে মতামত দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আলাদা চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত