যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে

চলতি মাসের শুরুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় অঞ্চলটিতে সংঘাত বন্ধের আশা বাড়ছিল। দুই দেশের কর্মকর্তাদের ইতিবাচক ইঙ্গিত সেই আশার আলোর পারদ বাড়িয়েছিল। তবে ইতিমধ্যে দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলটিতে নতুন করে অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার পর ইরানের নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা। জবাবে গতকাল রবিবার কুয়েত আর বাহরাইনে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এমটি কিকু’তে হামলা চালিয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং ড্রোন সংরক্ষণাগারে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে সেন্টকম। পাল্টা হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি ও বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের ঘাঁটিতে ইরানের এসব হামলায় আট গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। তারা আরও বলেছে যেকোনো উসকানি বা আগ্রাসন, অজুহাত যাই হোক না কেন, এমনকি ছোটখাটো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলেও তার তীব্র ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য হয়, তবে ইরানের ‘আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না’। ট্রাম্প হুমকির সুরে আরও লেখেন এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর সংযত থাকা সম্ভব হবে না এবং আমরা অত্যন্ত সফলভাবে যে অভিযান শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করতে বাধ্য হব। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে রয়েছে। গতকাল রবিবার ইরাক সফরকালে তিনি বলেন, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে। সব বাধা দূর হওয়ার পর জলপথটির পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হবে।