প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভঙ্গুর শান্তিচুক্তির আওতায় ইসরায়েল ইরানে হামলা বন্ধ রাখলেও লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের এসব কার্যক্রম শুধু প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিও অনিশ্চয়তার পথ নিয়েছে। তবে পাঁচ দফা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে লেবানন-ইসরায়েল। তবে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গত শনিবার সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেম এটিকে ‘ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণের দলিল’ বলে অভিহিত করেন।

এক বিবৃতিতে তিনি চুক্তিটিকে ‘অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার একতরফা ছাড় দিয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ করেছে। ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে কার্যত লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি বৈধতা পেয়েছে এবং ‘সব লাল রেখা’ অতিক্রম করা হয়েছে। এই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা চুক্তি মেনে নেবেন না। হিজবুল্লাহর সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে কাসেম বলেন ‘সবচেয়ে কঠিন সময়েও আমরা যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়িনি, এখনো ছাড়ব না’। ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকাগুলোতে ফিরতে না পারা লাখো বাস্তুচ্যুত লেবানিজের মধ্যে, বিশেষ করে শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে, এই চুক্তি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরির নেতৃত্বাধীন আমাল আন্দোলনও চুক্তিটিকে ভারসাম্যহীন বলে সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এটি ইসরায়েলের অনুকূলে পরিস্থিতিকে আরও স্থায়ী করবে।

নাঈম কাসেমের দাবি, এই কাঠামোগত চুক্তি পূর্ববর্তী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের তুলনায় দুর্বল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার কথা ছিল। চুক্তির প্রতিবাদে গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন, আগুন ধরিয়ে দেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে হিজবুল্লাহ ও ইরানের পতাকা দেখা যায়। একই সময়ে অস্ত্রধারী হিজবুল্লাহ সমর্থকরা মোটরযানের বহর নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের বিভিন্ন স্থানে সেনা মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক তল্লাশিচৌকি স্থাপন করে। হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গৃহযুদ্ধের পথ বেছে না নিলে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা লেবানন সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।

তবে, কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নে লেবানন সরকার দায়িত্ব পালন করবে বলে অঙ্গীকার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি লঙ্ঘন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং চুক্তির আওতায় গৃহীত সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ অঙ্গীকার করেন। এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান বজায় রাখার জন্য দেশটির সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। গত শনিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্ৎজ জানান, তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যৌথভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের ওই ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত