জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে : পুনরাবৃত্তি নাকি প্রতিশোধ

শেষ বাঁশি বাজার তখনো ২ মিনিট বাকি। দুই দলই যখন অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই ডান দিক থেকে ছুটে আসা একটি বল ডি-বক্সের মধ্যে পেয়ে আলতো ছোঁয়ায় জালে জড়িয়ে দেন অলিভার নয়ভিল। ২০০২ বিশ্বকাপের ওই এক গোলেই প্যারাগুয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়, জার্মানি পৌঁছে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। জার্মানি হারানো গৌরব ফিরে পেতে মরিয়া, আর প্যারাগুয়ে চায় নতুন ইতিহাস লিখতে। দুই যুগ আগের সেই স্মৃতি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে রাউন্ড অব ৩২-এ লড়াইয়ে নামবে দুই দল।

সেই ম্যাচের পর অবশ্য আরও একবার মুখোমুখি হয় জার্মানি-প্যারাগুয়ে। ২০১৩ সালের একটি প্রীতি ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয়। তবে দুই দলের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ এলেই ফিরে আসে ২০০২ বিশ্বকাপের স্মৃতি। এবার আরেকটি নকআউট পর্বে কি একই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, নাকি প্রতিশোধের হাসি হাসবে প্যারাগুয়ে?

টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার নকআউটের টিকিট পেলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই জার্মানি। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টকে নাটকীয়ভাবে হারালেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে যায়। দলটির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ তিন তারকা-ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, জামাল মুসিয়ালা ও কাই হাভার্টজ। ক্লাব ফুটবলে আলো ছড়ালেও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে নিজেদের ছায়া হয়ে আছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির টিম ডিরেক্টর রুডি ফোলারও বিষয়টি স্বীকার করেন, ‘আমরা যদি সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অর্জন করতে চাই, তাহলে গত কয়েক বছরে যারা বিশ্বমানের খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে, তাদের পারফর্ম করতেই হবে। খেলোয়াড়রাও জানে, তাদের এখনো উন্নতির সুযোগ আছে। আমাদের সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে লড়তে হবে। আমার মনে হচ্ছে, সেই মুহূর্ত খুব কাছেই।’

অন্যদিকে প্যারাগুয়ে এবারের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলছে ‘ডি’ গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে। দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিদের মতো ছন্দময় ফুটবল নয়, বরং জমাট রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণই তাদের প্রধান অস্ত্র। তবে নিজেদের পুরো সামর্থ্য এখনো দেখাতে পারেনি দলটি। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলের বড় হারে টুর্নামেন্ট শুরু করে প্যারাগুয়ে। পরে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় গুস্তাভো আলফারোর দল। তুরস্ককে ১-০ গোলে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে তারা।

প্যারাগুয়ের ফুটবলের ইতিহাসে লড়াইয়ের অনেক গল্প আছে। দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তির ছায়ায় থেকেও তারা বারবার নিজেদের প্রমাণ করেছে তারা। ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা, কোপা আমেরিকায় নিয়মিত বড় দলগুলোকে চাপে ফেলা কিংবা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চমক দেখানো সবই সেই পরিচয়ের অংশ। তবে বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা ও সামগ্রিক শক্তিমত্তার বিচারে জার্মানিকেই এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। কিন্তু ইতিহাস দিয়ে তো আর নকআউট ম্যাচ জেতা যায় না। তাই জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ।