নেদারল্যান্ডসের দেওয়াল
ডাচ ডিফেন্সের শেষ প্রহরী এবং দলনেতা ভার্জিল ফন ডাইক এবার ডাচদের বহু বছরের লালিত বিশ্বকাপ অধরা স্বপ্ন পূরণে বদ্ধপরিকর। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৯৫তম ম্যাচে এসে নিজের প্রথম অ্যাসিস্টের স্বাদ পেয়েছেন লিভারপুলের এই চৌকস ডিফেন্ডার। এর আগে সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানের জয়ে হিপে মারাত্মক চোট পেয়ে পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো স্নায়বিক ভীতির মুখে পড়েছিলেন তিনি। তবে সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে রেকর্ড অষ্টম ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে জোহান ক্রুইফ বা ভ্যান ব্রঙ্কহর্স্টদের মতো কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে ডাচ ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার অনন্য রেকর্ড এখন ফন ডাইকের। তবে ডাচ মিডিয়া এই মহাতারকাকে নিয়ে সমালোচনা করতে ছাড়ছে না। বড় জয়ের পরও গ্রুপ পর্বে একটিও ‘ক্লিন শিট’ না পাওয়ায় ফন ডাইকের ওয়ান-অন-ওয়ান ডিফেন্ডিং এবং রক্ষণভাগ সাজানোর ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের গতিশীল কাউন্টার অ্যাটাক রোখার ক্ষেত্রে তার বর্তমান ফর্ম নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। ফন ডাইক অবশ্য এসবে কান দিচ্ছেন না। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই হৃদয়ভাঙা টাইব্রেকার পরাজয়ের ক্ষত তাকে আরও পরিপক্ব ও জেদি করেছে। এই ডাচ দলটির আসল শক্তি তাদের অভ্যন্তরীণ একতা, আর সেই একতার সুতোটি বেঁধে রেখেছেন ফন ডাইক নিজেই। শেষ ৩২-এর মহালড়াইয়ে আশরাফ হাকিমিদের থামাতে ফন ডাইক নিজেই হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, ‘মরক্কো দারুণ দল, তবে তাদের রক্ষণভাগেও বেশ দুর্বলতা আছে।’ মন্তেরেইয়ের মাঠে মরক্কোর আক্রমণভাগের গতিময় ঝড় থামাতে ডাচদের এই অভিজ্ঞ রক্ষণের দেয়ালকেই নিতে হবে মূল দায়িত্ব। সঙ্গে যেকোনো চাপের মুখে ঠাণ্ডা মাথায় তার অবিশ্বাস্য এরিয়াল ডিফেন্স ও পজিশনিং সেন্স এখন ডাচদের বিশ্বজয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্বমঞ্চে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে এবং হল্যান্ডের সোনালি প্রজন্মের অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ফন ডাইকের এই ইস্পাতকঠিন সংকল্পই এখন ডাচদের ড্রেসিংরুমের মূল চালিকাশক্তি।
আফ্রিকান রোভাক্সিন
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে মরক্কোকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের গতিদানব ও অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। পিএসজির এই ২৭ বছর বয়সী তারকা হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানের জয়ে কেবল গোলই করেননি, বরং সতীর্থ ইসমায়েল সাইবারিকে দিয়ে করিয়েছেন এক দুর্দান্ত গোল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আবদেলজলিল হাদ্দার পর হাকিমিই প্রথম মরক্কোর ফুটবলার, যিনি একই বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্টের অনন্য কীর্তি গড়লেন। শুধু তাই নয়, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেই ১২টি ম্যাচ খেলে আফ্রিকার ইতিহাসে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি এখন এককভাবে হাকিমির দখলে। তবে হাকিমির মাহাত্ম্য শুধু রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর পর এবার জাতীয় দলকেও সামলাচ্ছেন সামনে থেকে। হাইতির বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে তিনি দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন, তাতেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কেন ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যান তাকে ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ হিসেবে দেখছেন। মরক্কোর এই সোনালি প্রজন্মের মূল মানসিক শক্তিই হলো ঘুরে দাঁড়ানো, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন হাকিমি। নেদারল্যান্ডসের রাইট-ফ্ল্যাঙ্ক দিয়ে তার ওভারল্যাপ এবং সাশাকে করা লো-ক্রসগুলো রুখতে ডাচ ডিফেন্সকে তাদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পরীক্ষা দিতে হবে। মন্টেরির উত্তপ্ত আবহাওয়ায় পিএসজির এই তারকাই মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল স্বপ্নের মূল কা-ারি। বিশ্বমঞ্চে পিএসজি ফুটবলারদের মধ্যে ২০১৮ সালের পর থেকে ৩৬টি গোল এসেছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ হাকিমি।