বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব শেষ। এখন শুরু হবে আসল লড়াই, নকআউট। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আমরা ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছি। এই বিশ্বকাপে শুধু বড় দলগুলো নয়, ছোট দলগুলোরও আত্মবিশ্বাস, সংগঠন এবং কৌশলগত পরিপক্বতা ফুটবলকে নতুন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। নামের জোরে আর ম্যাচ জেতা যায় না, প্রথম পর্ব সেটাই আবার প্রমাণ করল।
এক সময় বিশ্বকাপ মানেই ছিল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি পরাশক্তির আধিপত্য। এখন সেই ব্যবধান দ্রুত কমছে। এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা উত্তর আমেরিকার দলগুলো আর শুধুই অংশগ্রহণ করতে আসে না; তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আসে। এই পরিবর্তন বিশ্ব ফুটবলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
প্রথম পর্বে বড় দলগুলো শেষ পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বেশির ভাগ ম্যাচেই তাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অনেক ম্যাচে দেখা গেছে, তুলনামূলক দুর্বল দলগুলো বলের দখল না রেখেও অসাধারণ রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং নিখুঁত ট্রানজিশনের মাধ্যমে ম্যাচে সমান লড়াই করেছে। আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত শৃঙ্খলা এখন ব্যক্তিগত প্রতিভার সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে এশিয়ার দলগুলোর পারফরম্যান্স। তাদের খেলায় এখন আর ভয় নেই। বল পায়ে আত্মবিশ্বাস, শারীরিক সক্ষমতা এবং ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন, সবকিছুতেই তারা আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এক সময় ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে শুধু রক্ষণ সামলানোর চিন্তা থাকত। এখন তারা সুযোগ পেলেই আক্রমণে যাচ্ছে এবং গোল করার চেষ্টা করছে। এই মানসিকতার পরিবর্তনই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আফ্রিকার দলগুলোর মধ্যেও একই চিত্র দেখা গেছে। আগের মতো শুধুই গতি বা শক্তির ওপর নির্ভর না করে তারা এখন অনেক বেশি সংগঠিত। ডিফেন্স থেকে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা, মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট, সব ক্ষেত্রেই উন্নতি চোখে পড়েছে। ফলে বড় দলগুলোর জন্য তাদের হারানো সহজ থাকেনি। অন্যদিকে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী শক্তিগুলোও বুঝে গেছে, সামান্য আত্মতুষ্টির মূল্য কত বড় হতে পারে। কয়েকটি ম্যাচে তারা বলের দখল রেখেও কাক্সিক্ষত ফল পায়নি। কারণ প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে শুধু তারকা ফুটবলার থাকলেই হয় না; প্রয়োজন ধৈর্য, সৃজনশীলতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
নকআউট পর্বে অবশ্য হিসাব সম্পূর্ণ বদলে যাবে। এখানে একটি ভুলই বিদায়ের কারণ হতে পারে। তাই এখন আর শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই হবে না; ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে হবে। সেট-পিস, বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকা, মানসিক দৃঢ়তা এবং অভিজ্ঞতাÑ সবকিছুই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।