হারারে টেস্টে বাংলাদেশের বাজে দিন

হারারেতে গতকাল ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের এই বনেদি সংস্করণে এখনো পরাশক্তি হয়ে উঠতে না পারলেও র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের সমীহ আদায় করে নিচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। সাদা পোশাকে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তাদের পক্ষেই কথা বলছে। সর্বশেষ চার টেস্টে সবগুলো জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে ৫ নম্বরে আছে দলটি। নিজেদের অবস্থান আরও ওপরের তুলতে আগস্টে দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাবে বাংলাদেশ। সব ধ্যান-জ্ঞান এখন সেদিকেই। তার আগে জিম্বাবুয়েতে একটি টেস্ট খেলতে নেমেছেন শান্তরা। এটাকে ওই সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন তিনি। মাঠে নামার আগের দিনও তুলনামূলক দুর্বল এই প্রতিপক্ষকে নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনার কথা শোনা যায়নি অধিনায়কের কণ্ঠে। এখানেই বোধহয় বড়সড় ভুল করেছে সফরকারীরা।

একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনে ব্যাট, বল ও ফিল্ডিংÑ তিন বিভাগেই দাপট জিম্বাবুয়ের। বাংলাদেশকে ১৪০ রানে অলআউট করে নিজেরা এক উইকেটে তুলেছে ১৩৬ রান। প্রথম ইনিংসে চার রানে পিছিয়ে থাকলেও ৯ উইকেট হাতে নিয়ে আজ লিড দিতে নামবে স্বাগতিকরা। নিয়ন্ত্রিত বাউন্স আর ধারাবাহিক পেস দিয়েই বাংলাদেশের ব্যাটারদের ধসিয়ে দেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। সুনিপুণ লাইন-লেন্থে উইকেটের পেছনে শট খেলতে বাধ্য করেন তারা। এই ফাঁদেই আটকে যায় সফরকারী ব্যাটিং বিভাগ। ১০ উইকেটের আটটি ধরা পড়ে ফাঁদে। উইকেটরক্ষক টাফাডজাওয়া সিগা একাই নেন পাঁচটি ক্যাচ। শেষ ২৭ রানেই আট উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় শান্তদের ইনিংস।

চলতি বছর প্রথমবার ঘরের মাঠে টেস্ট খেলতে নামলেও উইকেটের চরিত্র বুঝতে ভুল করেননি রিচার্ড এনগারাভা। এজন্য অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক ম্যাচে টস জিতে সফরকারীদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান এই পেসার। প্রথম ওভারে পাঁচ রান দেন তিনি। এরপর টানা চার ওভারে কোনো রান বের করতে পারেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। ব্যাটারদের হাঁসফাঁস করতে দেখে সপ্তম ওভারে নিজের পরিবর্তে নিউম্যান নিয়ামুরির হাতে বল দেন এনগারাভা। প্রথম বলেই বাজিমাত করেন ডানহাতি পেসার, ফেরান দুই রানে থাকা জয়কে। যদিও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না এই ওপেনার। রিভিউ পদ্ধতি না থাকায় আউট মেনে নিয়েই ফিরতে হয় তাকে। মমিনুলের সঙ্গে ৩০ রানের জুটির পর সাদমানও একই পথ ধরেন। তৃতীয় উইকেটে শান্তকে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন মমিনুল, গড়েন ৭৭ রানের জুটি। এর মধ্যে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। টেস্টে এটি তার ৪১তম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস, যা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে তামিমের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

তবে এই ইনিংসটাকে আর বড় করতে পারেননি মমিনুল। সর্বোচ্চ ৬০ রানে নিয়ামুরির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। এরপরই ধসে পড়ে ব্যাটিং বিভাগ। নিয়ামুরি-এনগারাভার সঙ্গে ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের তোপের মুখে যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেন নাজমুল হোসেন (১৯), মুশফিকুর রহিমরা (৯)। অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা তাওহীদ হৃদয় (৩) ও অমিত হাসানও (৪) আক্ষেপের পাল্লা ভারী করেন। সব মিলিয়ে আট ব্যাটার দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। এতে দুই সেশন ব্যাট করার আগেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে তৃতীয় সর্বনিম্ন ১৪০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ দল। নিয়ামুরি একাই নেন চার উইকেট।

ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে বোলাররাও সুবিধা করতে পারেননি। উদ্বোধনী জুটিতে ইনোসেন্ট কাইয়া ও বেন কারেন তোলেন ৮৯ রান। সব মিলিয়ে ১৪ ইনিংস পর টেস্টে ওপেনিং জুটিতে ফিফটি পার করে জিম্বাবুয়ে। সর্বশেষটিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে, গত বছর সিলেটে। কারেকে (৪২) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন খালেদ আহমেদ। তবে অর্ধশতক পূর্ণ করে ৭৬ রানে অপরাজিত আছেন কাইয়া। তার সঙ্গে ৪৭ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে আজ ১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন ব্রেন্ডন টেইলর। তাইজুল ইসলাম ক্যাচ না ছাড়লে গতকালই ফিরতে হতো এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে।