ভারতের উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার ১২ ঘণ্টা পর তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে যেকোনো মুহুর্তে আবারও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পানি পরিমাপক পয়েন্টে (খালিশাচাপানি বাইশপুকুর) তিস্তার পানি প্রবাহ বিপৎসীমার (৫২.১৫) দুই সেন্টিমিটার (৫২.১৩) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এরআগে রবিবার (২৮ জুন) বিকাল ৬টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার (৫২.২২) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, রবিবার বিকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা পরে রাত ৮টায় আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ৯টার পরে পানি প্রবাহ কমতে শুরু করে। সোমবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার সমান ছিল। সকাল ৯টায় তা কমে ৫২ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খোলা রয়েছে। পানির প্রবাহ কমছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সর্তকীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, রবিবার সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার (৫১.৯৭) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা বিকাল ৩টায় ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। গতকাল তিন ঘন্টায় পানি ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিকাল ৬টায় নদীর পানি ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। এরপর রাত ৮টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার (৫২.২৭) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ৯টা থেকে পানি কমতে শুরু করে।
এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অংশের সর্ব উত্তরের সিকিম, জলপাইগুড়ি, ডার্জিলিং, শিলিগুড়ি, সেবক, কোচবিহার সহ বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। সেই পানি তিস্তার গজল ডোবা ব্যারেজ দিয়ে ভারতের দোমোহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
রবিবার বিকালে তিস্তা নদীর পানি ফের বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ২০ গ্রামে পানি প্রবেশ করে। এসব গ্রামে শত-শত মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে আছে।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, রবিবার বিকালে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় আমার ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামে পানি প্রবেশ করে। এসব গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, রবিবার বিকালে বিপৎসীমা অক্রিম করায় আমার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, সোমবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করলেও এখন তিস্তায় বন্যার আশঙ্কা যায়নি। ভারতে যেভাবে অতিবৃষ্টিপাত হচ্ছে, সামনে বড় ধরণের বন্যা হতে পারে। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সর্তকতার সাথে দ্রুত প্রদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানান।