হিলিতে তীব্র গরমে ভয়াবহ লোডশেডিং, চরম ভোগান্তি

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে তীব্র গরমের মধ্যেই চলছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। দিন-রাত সমানতালে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে হিলির জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ-নির্ভর বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, অন্যদিকে তীব্র গরমে পড়াশোনা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। তবে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

হিলিতে গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। একবার বিদ্যুৎ গেলে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত আর দেখা মেলে না। বিদ্যুৎ আসার পর ১৫-২০ মিনিট থেকে আবারও উধাও হয়ে যায়। শহর এলাকায় কিছুটা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও করুণ।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাসিফ আহমেদ জানায়, একটু পরপর বিদ্যুৎ যাওয়ার কারণে পড়ার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সামনে পরীক্ষা থাকায় পড়াশোনার এই ব্যাঘাত তাদের ফলাফলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছে।

দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাক জানান, সারাদিন কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের পর রাতেও তীব্র গরমের কারণে ঘুমানো যাচ্ছে না। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ছোট ছোট শিশুরাও।

অটোচালক তয়েজ উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ঠিকমতো গাড়ি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। যেখানে আগে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হতো, এখন চার্জের অভাবে অর্ধেক বেলাও গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। ফলে আয় অনেক কমে গেছে।

হিলি বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের অভাবে ফ্রিজে রাখা জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন ও সাপোজিটরি জাতীয় ওষুধের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ।

দর্জি নূর ইসলাম ও ওয়ার্কশপ কর্মচারী শামীম হোসেন জানান, বিদ্যুৎ চালিত মেশিন ও যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় সময়মতো গ্রাহকদের কাজ ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদের অসন্তোষের পাশাপাশি তাদের দৈনিক আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ হিলি সাবজোনাল অফিসের এজিএম মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, আমাদের হাকিমপুর উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার, ৫টা ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুত সরবরাহ করে থাকি। বর্তমানে উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৮ মেগাওয়াট। কিন্তু আমরা এর বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। 

তিনি আরও জানান, লাইনে কোনো কারিগরি ত্রুটি নেই। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামাফিক বরাদ্দ কম পাওয়ার কারণেই এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে।