মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতি বিষয়ে মিডা-জাইকার সেমিনার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মিডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে কীভাবে অধিক মূল্যসংযোজনভিত্তিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়, সে বিষয়ে সেমিনারে আলোচনা হয়েছে। এতে নীতিনির্ধারক, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, মৎস্য বিশেষজ্ঞ, শিল্প খাতের প্রতিনিধিবৃন্দ, উদ্যোক্তা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনাওে বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম। এ ছাড়া মিডার নির্বাহী সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্প নিয়ে, জাইকার মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. এচিগো মানাবু জাপানের মৎস্যবাজার, বঙ্গোপসাগরে টুনা আহরণের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে, অ্যাগ্রোলিংকের সাইয়েদ ইশতিয়াক গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের সম্ভাবনা নিয়ে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ড. মুহাম্মদ তানভীর হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশের মেরিকালচার ও সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের সম্ভাবনা নিয়ে উপস্থাপনা করেন। বিশেষ বক্তা ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। অনুষ্ঠানের হোস্ট ও প্যানেল চেয়ার হিসেবে থাকবেন মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

সেমিনারে চারটি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাতগুলো হলো গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ, মেরিকালচার, অ্যাকুয়াকালচার ও চিংড়ি এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ। আলোচনায় শিল্পভিত্তিক মাছ ধরার বহর, অফশোর কার্যক্রম, ফিশ ল্যান্ডিং ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক মেরিকালচার, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিংড়ি মূল্যশৃঙ্খল, কোল্ড-চেইন অবকাঠামো এবং আধুনিক সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে বিশেষ বক্তব্যে বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ও মিনিস্টার এইচ ই তাকাহাশি নাওকি বলেন, ‘চলতি বছর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। উভয় দেশই ইপিএ-এর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মৎস্যসহ খাদ্য খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে এ সেমিনার অত্যন্ত সময়োপযোগী। বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতি শুধু দেশের ঐতিহ্যগত শক্তিই নয়, বরং ভবিষ্যতের বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি সম্ভাবনাময় খাত।’

সমাপনী বক্তব্যে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতি হাব মিডার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে আমরা সরকার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সমন্বয় করে কাজ করছি। বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনা থেকে বাস্তবায়নের পথ আরও সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন। আজকের আলোচনায় বিনিয়োগের পথে বিদ্যমান নীতিগত, অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জগুলো এবং সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু অগ্রগতি ইতিমধ্যে হয়েছে। এখন মিডার দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে এই সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়া।’