আদমজী ইপিজেডে বিনিয়োগ রপ্তানি কর্মসংস্থান বেড়েছে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে গত ২ দশকে বিনিয়োগ, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। মাত্র ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে ইপিজেডটি যাত্রা করলেও গত  ২ দশকে বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪০.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রথম অর্থবছরে কর্মসংস্থান হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৬২৫ জনের। সেখানে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ৭৫ হাজার ৯৫৯ জন।

এশিয়ার এক সময়ের বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলটি লোকসানের কারণে ২০০২ সালের ৩০ জুন বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপর আদমজীর ঐতিহ্যবাহী সেই শ্রম জনপদে ২০০৬ সালে ইপিজেড স্থাপন করে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কয়েক বছরের ব্যবধানে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পেতে শুরু করে আদমজী ইপিজেডে।

বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ জোন (বেপজার) ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বর্তমানে এ ইপিজেডে ৫৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। যার মধ্যে বিদেশী একক মালিকানাধীন ৩৬টি, চীন ও হংকংয়ের যৌথ মালিকানাধীন ৭টি ও বাংলাদেশী মালিকানাধীন ১১টি। বিদেশী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২টি, যুক্তরাজ্যের ১টি, মরিশাসের ১টি, সিঙ্গাপুরের ২টি, নেদারল্যান্ডের ১টি, দক্ষিণ কোরিয়ার ২টি, জাপানের ৬টি, চীনের ৬টি, ভারতের ৫টি, শ্রীলঙ্কার ১টি, স্পেনের ১টি, জার্মানীর ২টি, ইউক্রেনের ১টি, রোমানিয়ার ১টি, কুয়েতের ১টি, বিআর ভার্জিন আইল্যান্ডের ১টি, মালয়েশিয়ার ১টি, কানাডার ১টি। হংকং ও চীনের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬টি। এসব কারখানায় গার্মেন্টস, জিপার, কার্টন, হ্যাঙ্গার, লেভেল, ট্যাগ, জুতা, সোয়েটার, টেক্সটাইল, মোজা, জুয়েলারী, পলি ও ডায়িংসহ ইত্যাদি পণ্য উৎপাদন হচ্ছে যা শতভাগ রফতানিযাগ্য।

আদমজী ইপিজেডে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছিল ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিবছরই বেড়েছে বিনিয়োগ। এ পর্যন্ত এই ইপিজেডে বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪০.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বিদেশে রফতানি হয়েছিল ৯ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরে ইপিজেড থেকে বিদেশে রফতানি হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৪ দশমিক ৯৩  মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে কর্মসংস্থান হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৬২৫ জনের। বর্তমানে ইপিজেডে চাকরি করেছেন ৭৫ হাজার ৯৫৯ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা।