ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপে ফেললেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটে ব্রিফিং শেষ করার পর প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের সঙ্গেও টেলিফোনে পৃথক ব্রিফিং করেন রুবিও ও উইটকফ। সংবাদমাধ্যমটি এই বৈঠকগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান চুক্তি নিয়ে কংগ্রেসের উদ্দেশে প্রথম বিস্তৃত ব্রিফিং হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পলিটিকো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাতে জানায়, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা ইরানের পরমাণু কর্মসূচির জন্য সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে রুবিও ও উইটকফের কাছে বিস্তারিত জানতে চান।

ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি চূড়ান্ত চুক্তি করা, যাতে ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজের কাছে রাখতে না পারে। তাদের ভাষ্য, সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকই সেই চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করার ভিত্তি তৈরি করবে।

স্টিভ উইটকফ আরও জানান, পরমাণু ইস্যুতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ দলগুলো খুব শিগগিরই কাতারে যাবে এবং সেখানে পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করারও চেষ্টা করেন রুবিও ও উইটকফ। তারা আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরান এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ পায়নি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উৎস থেকে সরাসরি কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রিফিং চলাকালে একজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নিয়ে রুবিও ও উইটকফের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেই আলোচনা বন্ধ করে দিয়ে টেলিফোন ব্রিফিং শেষ করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা