ভারতকে ‘হাত কেটে ফেলার’ হুমকি পাকিস্তানের

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০৭ এএম

সিন্ধু নদের পানি বণ্টন নিয়ে ফের ভারতের ওপর চড়াও হয়েছে পাকিস্তান। ভারতের উদ্দেশে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদ্দিক মালিক হুমকি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান অভিমুখে আসা পানি যারা আটকে দেবে, তাদের হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই উসকানিমূলক মন্তব্য করেন।

২০২৫ সালে কাশ্মীরের পাহালগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটেই এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়।

একটি সংবাদ সম্মেলনে মুসাদ্দিক মালিক অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। তার দাবি, পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কৃষিনির্ভর। এ সময় তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই ঘোষণা করেছি, যারা আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করবে, তাদের ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি যে, কেউ যদি আমাদের পানির ওপর হাত দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেই হাত আমরা কেটে ফেলব।’

বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, চুক্তি না থাকলেও আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী পানিপ্রবাহ বজায় থাকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘উজান থেকে কি নিচের দেশের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়াটা ন্যায়সংগত?’ মন্ত্রী জানান, আইডব্লিউটি একটি বৈধ চুক্তি এবং এর বিচার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হওয়া উচিত।

একই সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, সিন্ধু পানি চুক্তি আইনত বাধ্যতামূলক। কোনো একক পক্ষ চাইলেই এটি বাতিল, স্থগিত বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির স্পষ্ট করেছেন যে, ‘পানি আমাদের জীবনরেখা এবং রেড লাইন।’

প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারত তার প্রাপ্য পানির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করবে এবং এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানের দিকে যেতে দেওয়া হবে না। গত বছর পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই ভারত চুক্তিটি স্থগিত রেখেছে। ভারতের সাফ কথা, যতক্ষণ পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিচ্ছে, ততক্ষণ এই চুক্তি স্থগিত থাকবে।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা এত দিন উভয় দেশের মধ্যে পানি বণ্টন ও ব্যবহারের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছিল।

সূত্র: এনডিটিভি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত