রাজধানীর ওয়ারী-নারিন্দা এলাকা থেকে এক পুরোহিতকে অপহরণের পর নির্যাতন করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত সুভাষ দেউরী (২৭) নামে ওই পুরোহিত বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) রাত আটটার দিকে ওয়ারীর স্বামীবাগ এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হন। পরে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে রুমমেটের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
সুভাষ দেউরী পুরান ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায়। তিনি ওয়ারীর নারিন্দা রোডে অগ্রণী ব্যাংকের পাশের একটি মেসে থাকেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুভাষ জানান, মাইগ্রেনজনিত সমস্যার কারণে তার স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে রিকশাযোগে স্বামীবাগে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা তার মনে নেই।
তার ভাষ্য, রাতে জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে একটি মেসের ভেতরে আটকে থাকতে দেখেন। সেখানে সাত-আটজন যুবক তাকে মারধর করে। তাদের কয়েকজন ইয়াবা সেবন করছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেওয়া হয়। পরে মোবাইলের বার্তা দেখে ব্যাংক হিসাবে এক লাখ ছত্রিশ হাজার টাকা রয়েছে জানতে পেরে সেখান থেকে ত্রিশ হাজার টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। তবে ব্যাংক অ্যাপ বা চেকবই না থাকায় তারা টাকা তুলতে পারেনি। এরপর তার রুমমেটকে ফোন করিয়ে বিকাশে ছয় হাজার টাকা এবং বোনকে ফোন করিয়ে আরও বিশ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুভাষ আরও জানান, তিনি অপহরণকারীদের কাছে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে দিনমজুর হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে গলায় থাকা ধর্মীয় মালা দেখে তারা তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে বুঝে যায়। সারারাত তাকে নির্যাতন করে আরও টাকা আদায়ের জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে কৌশলে ছাদে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে সেখান থেকে নিচে নেমে পালিয়ে আসেন। তিনি বলেন, নিজে পড়ে গিয়েছিলেন নাকি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত নন।
পরে একটি রিকশায় করে নারিন্দায় মেসের সামনে পৌঁছে রুমমেটকে খবর দেন। রুমমেট তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকরা জানান, তার কপালে কাটা জখম রয়েছে। এছাড়া বাম পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে এবং ডান পায়ের গোড়ালিতেও আঘাত রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অপহরণকারীরা নিয়মিতই পথচারীদের তুলে এনে মুক্তিপণ আদায় বা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। তবে অভিযুক্তদের কাউকেই তিনি আগে কখনও দেখেননি বলে জানান।
এ বিষয়ে ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিত। সোমবার রাতে তিনি স্বামীবাগের ইসকন মন্দিরে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রবেশের পর কয়েকজন তাকে একটি বাসায় নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেছেন। মঙ্গলবার ভোরে তিনি ওই বাসা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে আসেন। লাফিয়ে পড়ার কারণে তিনি আহত হয়েছেন।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থলটি মূলত গেন্ডারিয়া থানার আওতাভুক্ত। তবে ওয়ারী থানা পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করছে। এছাড়া ভুক্তভোগীর আগে থেকেই স্মৃতিজনিত সমস্যা রয়েছে। ফলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত স্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না। তারপরও অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।