খাল থেকে অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার, বাবা ও ভাই পলাতক

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ছাগল বিক্রি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আবদুল কাদের (২৪) নামের এক অটোরিকশাচালক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় খাল থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

নিহত আবদুল কাদের হেসাখাল ইউনিয়নের কুরকুটা গ্রামের লিটনের ছেলে। বর্তমানে তার পরিবার আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের মেরকট এলাকায় খালের পাড়ে বাড়ি করে বসবাস করছিল।

এই ঘটনার পর থেকে নিহতের বাবা লিটন, ছোট ভাই রাকিবসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মা কাজল বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আবদুল কাদেরের স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বাড়ির ছাগল বিক্রি করা নিয়ে কাদেরের সঙ্গে তার বাবা লিটন, মা কাজল বেগম ও ছোট ভাই রাকিবের মারামারি হয়। ওই দিনই নিজের নিরাপত্তার অভাব বোধ করে নাঙ্গলকোট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন কাদের। এর চার দিন পর আজ সোমবার সকালে পদুয়ারপাড় খালে তার অর্ধগলিত লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের চোখের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

কুরকুটা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও ফরিদ আহমেদ বলেন, ছাগল বিক্রির মতো একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাবা, ছোট ভাই ও মামা মিলে কাদেরকে হত্যা করেছে। হত্যার পর লাশটি প্রথমে তাদের রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে রাতের কোনো এক সময় লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়। ওই রান্নাঘরের মাটিতে এখনো রক্তের দাগ রয়েছে, যেখানে মাছি ও পোকা উড়ছে। ঘটনার পর থেকে ঘরে তালা দিয়ে সবাই পালিয়েছে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

পুলিশের ধারণা, তিন-চার দিন আগে কাদেরকে হত্যা করে লাশ খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ ও তদন্তে মনে হচ্ছে কাদের পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তিনটি দল কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।