সাবেক এমপি সিরাজ সরদারকে অতিথি করায়

ঈশ্বরদীতে প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে পাবনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করায় সেখানে হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়, ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার এবং শতাধিক শিক্ষার্থী ও অতিথিদের জন্য রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়।

জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার শিক্ষকতা জীবনের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অতিথি না করে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মোছা. শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার। 

অভিযোগ রয়েছে, এ কারণে হাবিবুর রহমান হাবিব-সমর্থিত উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার ও সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকের নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির গ্রুপিং-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অনুষ্ঠানে অতিথি করা হয়নি। এ কারণে হাবিব-সমর্থিত কৃষক দল নেতা মইনুল ইসলাম, আলম প্রামাণিক ও মনিক্কারের নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। তারা অনুষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং শিক্ষার্থী ও অতিথিদের জন্য রান্না করা খাবার মাটিতে ফেলে নষ্ট করে। তিনি এ ঘটনাকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অনুষ্ঠানে অতিথি না করায় তার পক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করেছে। এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মোছা. শাহীনা আক্তার বলেন, অতিথিরা পৌঁছানোর আগেই সেখানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব-সমর্থিত উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি আলম প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় গ্রুপিং-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পাবনা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলের কাছে পরাজিত হন। এরপর থেকে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদার ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরা শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। তাদের মধ্যে সৃষ্ট গ্রুপিং-সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণে স্থানীয় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর জেরে মাঝেমধ্যেই নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত