চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জনকল্যাণমুখী উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করেছেন পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে পৌরসভা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত বাজেট সভায় তিনি ৫৬ কোটি ৪৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮৬ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। এটিই এবারের বাজেটের সর্বমোট সম্ভাব্য আয়। 

বাজেটে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৮৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে সম্ভাব্য রাজস্ব উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার ৩৮৬ টাকা।

বাজেটে উন্নয়ন খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ খাতে সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। পৃথকভাবে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৯৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ৪ কোটি ৫১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা। এতে রাজস্ব উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭৬ টাকা।

উন্মুক্ত বাজেট উপস্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী, চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. এমরান হোসেন বাপ্পী, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ভিপি মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. হারুন অর রশিদ মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন ওপেল, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলমসহ উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর প্রকৌশলী, পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অংশীজন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাস্তা, ড্রেন, সেতু, কালভার্ট, সড়কবাতি নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য ৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকার বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অপরদিকে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বর্জ্য ভাগাড় (ল্যান্ডফিল) না থাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। এ কারণে ভাগাড় স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ খাতে চলতি বাজেটে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া প্রতি বছরের মতো এবারও পৌর পার্ক নির্মাণে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, চলতি অর্থবছরেই পৌর পার্ক নির্মাণের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বাজেটে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন খাতে ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, নর্দমা, ড্রেন ও খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতে ৩০ লাখ টাকা এবং মশক নিধনে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়তে পারে বলে জানান পৌর প্রশাসক।

বাজেট উপস্থাপন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি রাজস্ব আয়ের খাত বৃদ্ধি এবং কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে ঘোষিত জনকল্যাণমুখী বাজেট বাস্তবায়নে পৌরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।