সৈয়দ আব্দুল হাদী

৮৭ বছরে সুরভুবনের জীবন্ত কিংবদন্তি

‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি’ কিংবা ‘আছেন আমার মোক্তার’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর আজ জন্মদিন। ১৯৪০ সালের ১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই সংগীতসাধকের জন্মদিন উপলক্ষে আজ চ্যানেল আইতে দিনব্যাপী থাকছে বিশেষ আয়োজন।

দিনের শুরুতেই সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শাইখ সিরাজের পরিকল্পনায় ও লুইপার উপস্থাপনায় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘গান আছে এখানে’ প্রচারিত হবে, যেখানে শিল্পী ইমরান, সাব্বির, অপু ও আতিক পরিবেশন করবেন ১২টি কালজয়ী গান। এরপর দুপুর ১২টা ০৫ মিনিটে ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। তার সঙ্গে স্মৃতিচারণে অংশ নেবেন গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, শিল্পী খুরশীদ আলম এবং আবিদা সুলতানা। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রচারিত হবে শাইখ সিরাজ নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘গল্প আছে এখানে...’। এই প্রামাণ্যচিত্রে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে শিল্পীর শৈশব, সংগীতের আদি লগ্ন, সুরের বিবর্তন, কালজয়ী গানের পেছনের ইতিহাস ও দীর্ঘ পথচলার চড়াই-উতরাই।

ব্যক্তিগত জীবনে জন্মদিন নিয়ে কোনো বাড়তি উচ্ছ্বাস না থাকা এই শিল্পী জীবনকে সবসময় সহজভাবে গ্রহণ করেছেন। তবে সুরের ভুবনে এক গভীর অতৃপ্তি তাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। তার মতে, আরও ভালো করার এই ভেতরের তাগিদ ও অতৃপ্তিই একজন শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখে। ১৯৬০ সালে ছাত্রজীবনে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করা এই গুণী শিল্পী ১৯৬৪ সালে ‘ডাকবাবু’ চলচ্চিত্রে প্রথম একক কণ্ঠে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনাতেও অবদান রেখেছেন।

দীর্ঘ ছয় দশকের বর্ণিল ক্যারিয়ারে সংগীতে অসামান্য অবদান ও অনন্য কীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০০০ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হয়েছেন। এই বরেণ্য কণ্ঠশিল্পীর সুরের জাদুতে প্রাণ পাওয়া কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ‘চোক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিল না’, ‘সখী চলো না’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘পৃথিবীর পান্থশালায়’, ‘একদিন চলে যাবো’, ‘কথা বলবো না’, ‘যেও না সাথী’, ‘চলে যায় যদি কেউ’, ‘জন্ম থেকে জ¦লছি মাগো’, ‘মনে প্রেমের বাত্তি জ¦লে’ এবং ‘চোখ বুজিলে দুনিয়া আন্ধার’ ইত্যাদি।