শেষ ট্রফি শেষ যুদ্ধ!

মিডফিল্ড সম্রাট 

৩৫ ছুঁইছুঁই কেভিন ডি ব্রুইনার শরীরটা হয়তো চোটের আঘাতে কিছুটা জীর্ণ, ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে নাপোলিতে যাওয়ার প্রথম মৌসুমটাও কেটেছে অমø-মধুর। কিন্তু বল যখন তার পায়ে থাকে, তখন তিনি এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর প্লে-মেকার। বেলজিয়ামের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর শেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে রেড ডেভিলদের আরও একবার পথ দেখাচ্ছেন এই মিডফিল্ড জেনারেল।

তারুণ্যে ভরা বেলজিয়াম দল যখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখনো ডি ব্রুইনাই তাদের মূল ভরসা। কানাডার ভ্যানকুভারের বিসি প্লে স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করার পর ডি ব্রুইনা প্রশংসায় ভাসান স্টেডিয়ামটিকে, যা আমেরিকার এনএফএল ধাঁচের স্টেডিয়ামগুলোর চেয়ে তার কাছে খাঁটি ফুটবল ভেন্যু মনে হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে যথাক্রমে ইরান ও মিসরের সঙ্গে ড্র করে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকা বেলজিয়ামকে নকআউটে তুলতে এখন ডি ব্রুইনার জাদুকরী পাসিং রেঞ্জ বড্ড প্রয়োজন।

পেপ গার্দিওলার প্রিয় এই শিষ্যের জীবনের শুরুটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মা-বাবাকে ছেড়ে যখন গেঙ্কের একাডেমিতে যোগ দেন, তখন অন্তর্মুখী ও লাজুক স্বভাবের জন্য এক হোস্ট ফ্যামিলি তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই প্রত্যাখ্যানের রাতেই দেীয়ালে বল মেরে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর। সেই জেদই তাকে এনেছে প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের সেরা অ্যাসিস্টদাতার তালিকায় দুইয়ে। গার্দিওলার ভাষায়, ‘ও এই দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার।’ এতেই সেনেগালের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামের কোটি ভক্তের চোখ থাকবে তার এই মাস্টারক্লাসের ওপরেই।

 অপরাজেয় মানে

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইনজুরির নির্মম ছোবল সাদিও মানেকে ছিটকে দিয়েছিল বিশ্বমঞ্চ থেকে। সেই আক্ষেপ বুকে চেপে ৩৬ বছর বয়সে আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড এবারই সম্ভবতই নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। গ্রুপ পর্বের শুরুটা ফ্রান্স ও নরওয়ের কাছে হেরে চরম হতাশাজনক হলেও, ইরাককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেনেগাল। আর এই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন সাদিও মানে। নিজে গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে ইরাকি রক্ষণভাগকে একাই ব্যস্ত রাখেন এবং সতীর্থদের জন্য তৈরি করেন ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪টি নিশ্চিত সুযোগ। সেনেগালের ভারপ্রাপ্ত কোচ পেপ থিয়াও মানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, ‘মানে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে নিয়ে আমি আস্ত একটা বই লিখে ফেলতে পারি। ও যা করে তা অসাধারণ। ও শুধু আক্রমণের টেকনিক্যাল লিডারই নয়, নিচে নেমে রক্ষণভাগকেও সাহায্য করে।’ সেনেগালের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ গোলের মালিক মানে কেবল একজন স্ট্রাইকার বা উইঙ্গার নন, তিনি পুরো আফ্রিকান ফুটবলের এক জ্বলন্ত প্রতীক। লিভারপুলের সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম নায়ক মানে ইয়ুর্গেন ক্লপ ও স্টিভেন জেরার্ডের মতো কিংবদন্তিদের প্রিয় পাত্র। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের (২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড) রেকর্ডধারী মানে আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে এত অর্জনের মধ্যেও তিনি ভুলে যাননি তার শেকড়, নিজের গ্রাম বামবালিতে হাসপাতাল ও স্কুল তৈরি করে হয়েছেন মানবতার প্রতীক। এবার শেষবারের মতো সেনেগালকে নকআউটের বৈতরণী পার করিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের শেষ অধ্যায়টি রাঙাতে চান এই লিগের রাজা।