ইংল্যান্ডের সামনে কঙ্গো পরীক্ষা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ এএম

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যেমন গৌরবের অধ্যায় লেখা আছে, তেমনি মিশে আছে আক্ষেপর সুরও। ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে একমাত্র শিরোপা জয়ের পর কেটে গেছে ছয় দশক। প্রতিটি বিশ্বকাপেই ‘ফুটবল ঘরে ফিরবে’ এই প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামেন থ্রি লায়ন্সরা। কিন্তু ইংলিশদের এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে না।

অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর গল্প সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৯৭৪ সালে ‘জায়ার’ নামে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিন ম্যাচে ১৪ গোল হজম করে বিদায় নেয় দলটি। দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে এবার শুধু অংশগ্রহণেই সন্তুষ্ট নয়, ফুটবল বিশ্বে নিজেদের নতুন পরিচয় তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তারা। দুই দল এবার মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর নকআউট পর্বে।

আটলান্টায় এই লড়াইয়ে কাগজ-কলমে বেশ এগিয়ে হ্যারি কেইনরা। তবে গ্রুপ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স সমর্থকদের মন জয় করতে পারেনি। থমাস টুখেলের অধীনে নতুন অধ্যায় শুরু হলেও বিশ্বকাপে এখনো নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়নি ইংল্যান্ড। যদিও ‘এল’ গ্রুপের সেরা দল হিসেবেই নকআউটে এসেছে, তবে প্রশ্নবিদ্ধ পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচনাও সঙ্গী হয়েছে তাদের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু পায় ইংল্যান্ড। এরপর ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র এবং পানামার বিপক্ষে দীর্ঘ সময় নিষ্প্রভ ফুটবল দলটির দুর্বলতাগুলো সামনে এনে দিয়েছে। ফিল ফোডেন, বুকায়ো সাকা কিংবা অ্যান্থনি গর্ডনের মতো আক্রমণভাগের ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি। মাঝমাঠে জুড বেলিংহাম একাই লড়ছেন, তাকে সমর্থন দিতে পারছেন না সতীর্থরা।

নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ নেই। গ্রুপ পর্বের ধীরগতির ফুটবল নিয়ে আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, সেটি টুখেল ভালোভাবেই জানেন। ডেকলান রাইসের ফেরার সম্ভাবনা ইংল্যান্ডকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে রাইটব্যাক পজিশন নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। রিস জেমস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে আগের ম্যাচ খেলতে পারেননি। তার বদলি জ্যারেল কোয়ানসা গোড়ালির চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ায় ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জেড স্পেন্সের একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। আক্রমণের গতি বাড়ানো এবং প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙাই হবে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি নিজেদের মেলে ধরে নকআউট পর্বের টিকিট পেয়েছে কঙ্গো। এই বিশ্বকাপের অন্যতম চমক বলা হচ্ছে দলটিকে।

তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে সেরা হয়ে নকআউটে ওঠা কঙ্গো দেখিয়ে দিয়েছে, তারা কেবল অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরাতে আসেনি। গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র এবং কলম্বিয়ার কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের পর শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে তারা। দলটির কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে জানেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সমানতালে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে গেলে ঝুঁকি বাড়বে। তাই পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণ, মাঝমাঠে শক্তি বাড়ানো এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণই হতে পারে কৌশল। এভাবেই পর্তুগালের বিপক্ষে পয়েন্ট পেয়েছিল তারা।

ইংল্যান্ড-কঙ্গো এই ম্যাচের আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি। বিশ্বকাপের এই নকআউট ম্যাচই দুই দলের ইতিহাসের প্রথম সাক্ষাৎ। এই লড়াই জিতে বহুদিনের বিশ্বকাপের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার পথে এগিয়ে যেতে চাইবে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো চাইবে তাদের রূপকথার যাত্রাকে আরও দীর্ঘ করতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত