মেসিকে ছুঁলেন এমবাপ্পে, সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসিকে ছোঁয়া আর বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্যের নতুন প্রদর্শনী—সবই যেন এক সুতোয় গেঁথে নিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি অধিনায়কের জোড়া গোল আর মাইকেল অলিসের জাদুকরী নৈপুণ্যে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পা রাখল দিদিয়ের দেশমের দল।

নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের ৮০ হাজারের বেশি দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা এই জয়ের পর, আগামী রবিবারে ফিলাডেলফিয়াতে লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফরাসিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডেনের আলেকজান্ডার ইসাক কিংবা ভিক্টর গিওকেরেসদের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রেখেছিল উইলিয়াম সালিবা ও দায়ো উপামেকানোর রক্ষণভাগ। শুরুর ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফ্রান্স। প্রথমার্ধের মাঝপথে অলিসের পাস থেকে এমবাপ্পে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর অলিসের এক চোখধাঁধানো ওভারহেড বাইসাইকেল কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ফ্রান্স। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ভাঙল ডেডলক। উসমান দেম্বেলের ছোট কর্নার থেকে বল পেয়ে সুইডিশ ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে চমৎকার কোণাকুণি শটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।

প্রথম গোলটি করেই এমবাপ্পে ছুটে যান ডাগআউটের দিকে, জড়িয়ে ধরেন কোচ দিদিয়ের দেশমকে। মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে সদ্যই দলের সাথে যোগ দেওয়া কোচের প্রতি এই শ্রদ্ধা জানানোর মুহূর্তটি ছুঁয়ে গেছে সবাইকে। এই টুর্নামেন্ট শেষেই ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের ইতি টেনে পদত্যাগ করবেন দেশম। প্রথমার্ধের সেই ১-০ ব্যবধানকে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে অলিস সুইডিশ ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে এক নিখুঁত পাস বাড়ান বারকোলার উদ্দেশ্যে, যা জোরালো শটে জালের ছাদে আছড়ে ফেলেন পিএসজির এই উইঙ্গার।

পুরো ম্যাচজুড়ে আলো ছড়ানো অলিস নিজের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টটি করেন ম্যাচের ৭৪ মিনিটে। তার আরও একটি দুর্দান্ত পাস ধরে বক্সে ঢুকে বাঁকানো শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। এই জোড়া গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সমান ৬ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন শীর্ষে রইলেন ফরাসি অধিনায়ক। একই সাথে সব বিশ্বকাপ মিলিয়ে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা এখন ১৮, যা মেসির সর্বকালীন রেকর্ড (১৯ গোল) থেকে মাত্র এক গোল দূরে।

পরাশক্তি ফ্রান্সের এমন আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে প্লে-অফ খেলে বিশ্বকাপে আসা সুইডেন কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। শেষ ষোলোর মঞ্চে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার আগে ফ্রান্স এখন আরও একবার পরিষ্কার ফেবারিট। এই ম্যাচটি দুই দলকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে, যেখানে দেশমের অধিনায়কত্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে লরেন্ট ব্ল্যাঙ্কের গোল্ডেন গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। আরও একবার তেমন এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি করে শেষ ষোলোতে পা রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।