হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক বসাতে ইরান-ওমানের যৌথ উদ্যোগ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর যৌথভাবে ‘সেবা মাশুল’ বা ট্রানজিট শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও এ বিষয়ে দুই দেশ এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একজন ইরানি কর্মকর্তা ও চারজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতায় ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রণালিটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানকে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরির কথাও উল্লেখ ছিল। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কাঠামোর অংশ হিসেবে প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে সেবা মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে শতাব্দীপ্রাচীন মুক্ত নৌ-চলাচলের নীতির সঙ্গে এ উদ্যোগ সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ওমান চাইছে শুল্ক পরিশোধের বিষয়টি স্বেচ্ছাভিত্তিক হোক। অন্যদিকে ইরান এটি বাধ্যতামূলক করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মাস্কাটের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হয়, সেই খরচ মেটাতেই এ অর্থ ব্যবহার করা হবে। এ ব্যবস্থাকে মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালির পরিচালন কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার সতর্ক করে বলেন, ওমানের সঙ্গে যৌথ সমঝোতা না হলেও তেহরান এককভাবেই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরানের এমন একতরফা পদক্ষেপ ঠেকাতেই সমঝোতার পথ খুঁজছে ওমান।

এদিকে সম্ভাব্য এই উদ্যোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান ও ওমান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে, তাহলে তার কঠোর পরিণতি হবে।

ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। কোনো দেশ এককভাবে এর নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে না।

তবে পরবর্তীতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে ওমানের কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের বিষয়ে তাদের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।