বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর মঞ্চে ফরাসি ঝড়ের সামনে কোনো পাত্তাই পায়নি সুইডেন। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল আর ব্র্যাডলি বারকোলার লক্ষ্যভেদে ৩-0 ব্যবধানের বড় হারে বিদায় নিয়েছে নর্ডিক দেশটি। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই সুইডেনের সবচেয়ে দ্রুততম বিদায়। তবে এমন বড় হারের পরও কোনো আক্ষেপ নেই সুইডিশ কোচ গ্রাহাম পটারের। ম্যাচ শেষে অকপট স্বীকারোক্তিতে তিনি জানিয়েছেন, ফ্রান্সের এই দলটির বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দিয়েও আসলে জয়ের কোনো সুযোগ ছিল না।
ম্যাচ শুরুর আগে মাঠের আবহটা ছিল বেশ ভিন্ন। যখন লাউডস্পিকারে এডিথ পিয়াফের “লা ভি এন রোজ” (গোলাপি রঙের জীবন) গানটি বাজছিল, তখন হয়তো ফরাসিরা মাঠের ভেতরে এক নির্মম বাস্তবতাই সাজাচ্ছিল সুইডেনের জন্য। আগের দিনই প্যারাগুয়ের কাছে ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির টাইব্রেকার ট্র্যাজেডি দেখে ডেভিড বনাম গোলিয়াথের আরও একটি রূপকথা দেখার স্বপ্ন বুনেছিলেন সুইডিশ সমর্থকেরা। কিন্তু এমবাপ্পের দল সেই অসম্ভবকে সত্যি হতে দেয়নি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পের প্রথম গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে বারকোলার ব্যবধান দ্বিগুণ করার পর ম্যাচটি সুইডেনের হাত থেকে পুরোপুরি ফসকে যায়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফরাসিদের উচ্চমানের ফুটবলকে কুর্নিশ জানিয়ে গ্রাহাম পটার বলেন, “এই ম্যাচে আমাদের শতভাগ নিখুঁত বা পারফেক্ট ফুটবল খেলতে হতো। কিন্তু আমি যদি পুরোপুরি সৎভাবে বলি, আমরা নিখুঁত খেললেও ফ্রান্সের এই দলটিকে হারানো সম্ভব হতো কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। কারণ প্রতিপক্ষ আজ অন্য এক উচ্চতায় ছিল।” ফরাসি দলের অভিজ্ঞতার সাথে নিজের তরুণ দলের তুলনা টেনে তিনি আরও যোগ করেন, “ফরাসি খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার আর অর্জনের খাতার দিকে তাকালেই পার্থক্যটা বোঝা যায়। আমাদের দলটি খুবই তরুণ এবং কেবলই গড়ে উঠছে। তবে আমি বিশ্বাস করি এই ছেলেদের সামনে দুর্দান্ত এক ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।”
ম্যাচের এই একপাক্ষিক লড়াইয়ের ব্যবধান অবশ্য মাঠের বাইরেও স্পষ্ট ছিল। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই জিতে পুরো ৯ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে এসেছিল ফরাসিরা, যেখানে প্লে-অফের বৈতরণী পার হয়ে আসা সুইডেনকে গ্রুপ পর্বেও বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। প্রথমার্ধের প্রতিরোধ ভেঙে যাওয়ার হতাশা প্রকাশ করে সুইডেনের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ভিক্টর লিন্ডেলফ বলেন, “বিরতির আগে যদি আমরা ০-০ ব্যবধান ধরে রাখতে পারতাম, তবে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ওরা দ্রুত গোল পেয়ে যাওয়ায় আমাদের কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়। আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের মুখোমুখি হয়েছিলাম।”
সুইডেনকে বিদায় করে শেষ ষোলোর মঞ্চে এবার প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স। লাতিন আমেরিকার দেশটির জন্য এই ম্যাচ যে আরও বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে পটার বলেন, “ফুটবলে অবশ্যই যেকোনো কিছু ঘটা সম্ভব। তবে ব্যক্তিগতভাবে এই বিশ্বকাপে আমি ফ্রান্সের চেয়ে সেরা বা গোছানো কোনো দল আর দেখিনি।”