চীনের স্পেসসেল কতটা শক্তিশালী

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বিশ্ববাজারে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য ধরে রেখেছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। তবে সেই একচ্ছত্র অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে এসেছে চীনের ‘স্পেসসেল’ (কিয়ানফান) প্রকল্প। ২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১৫ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট স্থাপন করে উচ্চগতির, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা।

বর্তমানে স্টারলিংকের কক্ষপথে প্রায় ১০ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট থাকলেও স্পেসসেলের সংখ্যা মাত্র কয়েকশ। তবু চীনা প্রতিষ্ঠানটি দ্রুতগতিতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। ইতিমধ্যে তাদের কয়েক দফা উৎক্ষেপণের মাধ্যমে প্রায় ২০০ স্যাটেলাইট সক্রিয় হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৬৪৮-এ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট স্থাপনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসসেলের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো এমন দেশগুলোকে লক্ষ্য করা, যেখানে রাজনৈতিক বা নীতিগত কারণে স্টারলিংক পুরোপুরি কার্যক্রম চালাতে পারেনি। ব্রাজিল ও কাজাখস্তানের মতো দেশে তারা ইতিমধ্যে অগ্রগতি দেখিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের বিমান নির্মাতা এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সেবায়ও প্রবেশ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংখ্যা, গ্রাহক ও বৈশ্বিক উপস্থিতিতে স্টারলিংক এখনো অনেক এগিয়ে। তবে চীনের সরকারি বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নতুন বাজারে দ্রুত প্রবেশের কৌশল স্পেসসেলকে ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট খাতের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত করতে পারে।